রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়া পর্যটকদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১৫০ জন পর্যটক নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেন। বিকেলে মাচালং বাজার, সীমানাছড়া ও বাঘাইহাট বাজার এলাকায় নৌকা দিয়ে পার করে এরপর সড়ক পথে তাঁদের নিরাপদ গন্তব্যে পাঠানো হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টায় বাঘাইহাট জোন এ তথ্য নিশ্চিত করে। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড় ধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেক ভ্যালিতে মোট ৫৬১ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে পানিতে ডুবে থাকা সড়কগুলোতে নৌকা ও ভেলার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়।
বাঘাইহাট জোন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৫০জন ও শুক্রবার সকাল ৯টায় দ্বিতীয় দফায় আরও ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর এসকর্টে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। অবশিষ্ট প্রায় ১০০ জন পর্যটককেও পর্যায়ক্রমে নিরাপদে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, আটকা পড়া পর্যটকদের বিনা ভাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শুধু পানির বিল নেওয়া হচ্ছে। এদিকে টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির স্বাভাবিক জনজীবন। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এপর্যন্ত পুরো রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৩৫২৪ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহন করেছে।
অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি জুরাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ী ও ফসলি জমিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ ভুগছেন বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে। এছাড়া রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যেকোনো সময় নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।