কেশরহাটে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ জাল, হুমকিতে দেশীয় মাছ

এম এম মামুন; রাজশাহী
| আপডেট: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম | প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
কেশরহাটে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ জাল, হুমকিতে দেশীয় মাছ
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে অবৈধ দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। এসব জাল দিয়ে দেদারসে ধরা হচ্ছে মা ও পোনা মাছ। এতে নদ-নদী ও খাল-বিলে বোয়াল, শোল, শিং, টেংরা ও পুটিসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের প্রজনন আজ ধ্বংসের মুখে। এভাবেই দেশীয় মাছের প্রজাতি ধ্বংস করে যাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীরা। শনিবার (১১ জুলাই) মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে শুরু হয়েছে অবৈধ কারেন্ট জালের জমজমাট ব্যবসা। বর্ষা মৌসুম এলে সব খাল, নদী ও বিল ভরে যায়। পানির সঙ্গে সঙ্গে প্রজননের এই মৌসুমে মাছগুলো ডিম ছাড়ে এবং ডিম থেকে পোনার উৎপাদন হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে অসাধু মৎস্যজীবীরা এসব ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাঝ নিধন করে যাচ্ছে। উপজেলার কেশরহাটে কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জাল অবাধে বিক্রি করছে। এই অবৈধ জাল কেনার জন্য হাট বাজারে ভিড় করছে অবৈধ মৎস্যজীবীরা। এই অবৈধ জাল দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত মণ পোনা ও মা মাছ নিধন করা হচ্ছে। রাজশাহী জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় ২০০২ সালে সরকার মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন করে। ওই আইনের একটি ধারায় বলা আছে কোনো ব্যক্তি কারেন্ট জালের উৎপাদন, বুনন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন না। আইন ভঙ্গ করলে জেল-জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে। এই সঙ্গে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালায় ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার বা তার কম দৈর্ঘ্যের ফাঁস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা শুরু হলে ব্যবসায়ীরা অবৈধ এসব জালের মজুদ গড়ে তুলে। খুচরা বিক্রেতারা এসব জাল কিনে কেশরহাটসহ ভিন্ন হাটবাজারে এসব বিক্রি করছে। এসময় কোনো কোনো ব্যবসায়ীকে এসব জাল লুকিয়ে বিক্রি করতেও দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন জাল ব্যবসায়ী জানান, উপজেলার সব চেয়ে বড় কারেন্ট জালের পাইকারি ব্যবসার হাট হলো কেশরহাট। কয়েকজন ব্যবসায়ী এ হাটে লাখ লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জালের পাইকারির ব্যবসা করে থাকেন। এ হাট থেকে লাখ লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল ক্রয় করে এলাকার ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে খুচরা বিক্রি করে থাকেন। ইতিমধ্যে কেশরহাটে অনেক জাল ব্যবসায়ী কারেন্ট, চায়না দুয়ারি জালের মজুদ গড়ে তুলেছেন। বাজারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে সয়লাব থাকলেও প্রতিকার বা অভিযানের কোনো উদ্যোগ নেই উপজেলা মৎস্য অফিসের। সরকারের এ নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্ট জাল সর্বত্র নিষিদ্ধ থাকলেও এখন খোলাবাজারেই বিক্রি করা হচ্ছে। মোহনপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো: বেনজির আহমেদ বলেন, কেশরহাটে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রয়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, কোথাও কারেন্ট জাল বিক্রির খোঁজ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে