রংপুরে

গেজেটে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
গেজেটে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রধান শিক্ষকদের ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে গেজেটভুক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টায় নগরীর প্রেসক্লাব সংলগ্ন সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তরা আবামল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামীম আরশাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গুড়গুড়ী বেগপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান, জমগ্রাম সরকারটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনুজ্জামান সরকার, ছোট রাউতা আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালে দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের সময় এক লাখ ৮ হাজার ৭৭২ জন শিক্ষক সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হন। সে সময় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত গেজেট, প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা ও পরিপত্রে কর্মরত প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ পদে গেজেটভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রধান শিক্ষককে ‘প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করে ‘সহকারী শিক্ষক’ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে তারা স্কুল পরিচালনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও গেজেটে প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। অথচ জাতীয়করণের আগে বিদ্যালয় পরিচালনা ও নিবন্ধনের নীতিমালা, জাতীয়করণ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এবং পরবর্তী বিধিমালায় প্রধান শিক্ষক পদের স্বীকৃতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে একাধিকবার তথ্য আদান-প্রদান, সুপারিশ ও ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক পদ বহাল থাকার পরও গেজেটে তাদের সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তাদের পদমর্যাদা, চাকরিজীবন ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বক্তারা জানান, এ বৈষম্যের প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান শিক্ষকরা আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালত ইতোমধ্যে তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন, স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে জাতীয়করণ-সংক্রান্ত গেজেট, প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা ও পরিপত্রের আলোকে বাদ পড়া প্রধান শিক্ষকদের ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে গেজেটভুক্ত করা এবং ১২ আগস্ট ২০১৩ সালের সংশোধনী প্রজ্ঞাপন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে