তারেক রহমানের চীন সফরের অর্জন শুন্য: নাহিদ ইসলাম

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
তারেক রহমানের চীন সফরের অর্জন শুন্য: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সময়ের চীন সফরের অর্জন শুন্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, কিছুদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে গিয়েছিলেন। আমরা বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সংসদে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। এরপরে হয়তো কিছু বলা উচিত না। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছিথচীন সফরের অর্জন কোথায়? চীন সফরের অর্জন হচ্ছে শুন্য। চীন সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমরা কোন কমিটমেন্ট পাই নাই। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন নিয়ে কোন কমিটমেন্ট পাই নাই। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে যদি জাতীয় ঐক্য না থাকে, তারেক রহমান পৃথিবীর কোন দেশ থেকে কোন ধরণের সাহায্য পাবে না। অলরেডি আইএমএফ তাদের (সরকারকে) বলে দিয়েছে আর কোন ঋণ দিবে না। পৃথিবীর কোন দেশই তাদেরকে সহযোগিতা করবে না। গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কারের সাথে প্রতারণা করলে কেউই সহযোগিতা করবে না। 

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, রংপুর থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের সিপাহ সালাহ ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম নির্বাচনের পরে বিএনপি গণভোটের সাথে প্রতারণা করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরে সকলের দাবি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল এবং এসেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অস্বীকার করেছিল। তার ফলাফল কি হয়েছিলথবিএনপিকে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলে রাজপথে নির্যাতিত হতে হয়েছিল।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যেই গণঅভ্যুত্থান, গণভোট, সংস্কার ও জুলাই সনদের কারণে বিএনপি আজ ক্ষমতায় আসতে পেরেছে। এখন সেই গণভোটের সাথেই প্রতারণা করেছে। বিএনপি ৩১ দফার সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপি জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা করেছে। বিএনপি গণতন্ত্রের সাথে প্রতারণা করেছে।

তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ নেই। বাংলাদেশে গ্রামেগঞ্জে আবার মানুষ হারিকেন জ্বালাতে বাধ্য হয়েছে। এই সরকার বিগত সময়েও হারিকেন দিয়েছে, এবারো বাংলাদেশের মানুষের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। কর্মসংস্থান দিতে পারছে না।

জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই বাজেটে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা রাখা হয়নি। ব্যাংকগুলো কিভাবে ঠিক হবে, দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা কিভাবে ফেরত আসবে, কোনো ধরণের সুপরিকল্পনা এই সরকারের নেই। ফলে আমরা বলব আপনি (তারেক রহমান) এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। দেশ চালাতে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংস্কার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, যদি দেশ পরিচালনা সঠিকভাবে করতে হয় তাহলে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রীকে) অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। সীমান্তে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ করতে হবে। যদি সীমান্ত হত্যা, পুশইন প্রতিরোধ করতে না পারেন তাহলে নিজেদের দল থেকে জাতীয়তাবাদী শব্দটি কেটে ফেলে দেন। জাতীয়তাবাদের নামে ব্যবসা করবেন, নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক দেখাবেন। অথচ সীমান্ত হত্যা, পুশইন রোধ করতে পারবেন না, তাহলে দেশের জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেন্ট দিবে না।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে আসার পরিকল্পনা করছে। আমরা ফাঁসির দঁড়ি রেডি করে অপেক্ষা করছি। আপনি (শেখ হাসিনা) ডিসেম্বরে আসুন আর যখনই আসুন ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলতেই হবে। বাংলাদেশ থেকে যে পালিয়ে যায়, সে আর বাংলাদেশে কখনো ফিরে আসে না। পাকিস্তানিরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। ইংরেজরাও এর থেকে সম্মানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকার এত অসম্মানজনকভাবে কাপুরুষোচিত ভাবে এই দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে। তিনি আর এই দেশে আসার সৎ সাহস কখনো রাখবে না। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা আসবে কি আসবে না, এটা দিল্লীর সাথে ঢাকাকে নির্ধারণ করতে হবে। এই সরকার থেকে দিল্লীকে ম্যাসেজ দিতে হবে। শেখ হাসিনা দিল্লীতে বসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ফ্যাসিস্ট মিডিয়ার দোসররা সেই সকল তথ্য প্রচার করছে। বাংলাদেশের জনগণ এটা মেনে নেবে না।

 এ সময় সংস্কার, গণভোট, জুলাই সনদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের দাবি বাস্তবায়নে অচিরেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক আসবে বলে জানান তিনি। সেই আন্দোলনে সফল হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্য শেষ করেন। এর আগে বক্তব্যের শুরুতে সমাবেশের সভাপতি ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রংপুর বিভাগ বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ধরে আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আমরা আশা করেছিলাম, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এবারের নির্বাচনে যেই সরকার গঠিত হয়েছে তাদের প্রথম বাজেটে রংপুর বিভাগের প্রতি সুদৃষ্টি সুনজর দেয়া হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম এবারের বাজেটেও রংপুর বিভাগের সাথে বাজেট বৈষম্য করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের বেশির ভাগ আসন বিরোধী দলের হওয়ার কারণে পরিকল্পিতভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রংপুরে কোন বড় উন্নয়ন প্রজেক্ট রাখা হয়নি। বরাদ্দ সব যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। গোপালগঞ্জ প্রতিস্থাপিত হয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জে। কিন্তু যারা প্রকৃত বৈষম্যের শিকার, সেই রংপুরবাসী কোন বরাদ্দ পাচ্ছে না। সরকারি দলের এমপিরা যেই বরাদ্দ পায়, বিরোধী দলের এমপিরা সেই বরাদ্দের তিনভাগের একভাগও পাচ্ছে না। রংপুর বিভাগীয় এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ফুয়াদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন,

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে