স্থগিত কিছু স্কুলের পরীক্ষা

টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী

শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের সকালে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এর প্রভাব পড়ে, এর মধ্যে মিরপুরের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি শাখায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে দ্রুত পানি নামতে না পারায় রাজধানীর গ্রিন রোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, ধানমন্ডি ২৭ ও ৩২ নম্বর, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, কালশী, মিরপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, উত্তরাসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

অনেক এলাকায় ফুটপাত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানি জমে থাকায় রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন ধীরগতিতে চলেছে। চলন্ত যানবাহনের সৃষ্ট ঢেউয়ে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কোথাও কোথাও গলি থেকে প্রধান সড়কে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, “সড়কে গাড়ি চলার ফলে যে ঢেউ তৈরি হচ্ছে, তাতে হাঁটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুটপাত পানির নিচে থাকায় মূল রাস্তা দিয়েই চলতে হচ্ছে।”

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ রুবেল হোসেনের ভাষ্য, “প্রতিবার বৃষ্টি হলেই একই অবস্থা হয়। সকাল থেকেই হাঁটু পানি জমে থাকে। বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। মনে হয় এখানে কার্যকর কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।”

ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার বাসিন্দা সাবরিনা ইসলাম বলেন, “ছাতা নিয়ে অফিসের জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু সড়কে জমে থাকা পানিতে জুতা ও কাপড় ভিজে গেছে। অফিসে পৌঁছানোর আগেই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।”

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমেও। মিরপুরের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শেওড়াপাড়া শাখার সামনে এবং আশপাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অভিভাবকদের অনুরোধে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “সন্তানকে নিয়ে পরীক্ষার জন্য বের হয়েছিলাম, কিন্তু গলি থেকেই বের হতে পারিনি। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়।”

এদিকে কয়েক দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে গত ছয় দিনে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২৪২ কিলোমিটার সড়কও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং চলাচলে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে