মুহূর্তটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনে এটি হয়ে থাকবে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি। যে দৃশ্য তারা কেবল কল্পনায় ভেবেছিল, সেটিই বাস্তবে ধরা দিল কয়েকটি অনন্য মুহূর্তে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসটি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সাত মাইল স্টেশন অতিক্রম করে বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এ সময় শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিল। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা দেখে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসটি থামানো হয়। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করেন, সালাম দেন এবং তাদের পড়াশোনা ও খোঁজখবর নেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানতে চান, তোমাদের মধ্যে খেলাধুলা কে কে পছন্দ করো? জবাবে শিক্ষার্থীরা একযোগে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানায়, তারা সবাই খেলাধুলা ভালোবাসে। পরে প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন সেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী তুলে দেন এবং খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রায় আড়াই মিনিট ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপচারিতার একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সেলফি তোলার আবদার জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে শিক্ষার্থীর হাত থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে নিজেই সেলফি তোলেন। সেই মুহূর্তে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রীর তোলা সেই সেলফি মুহূর্তেই তাদের জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতিতে পরিণত হয়। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক এ. কে. আজাদ বলেন, এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অকল্পনীয় ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী এত কাছে এসে কথা বলবেন, ক্রীড়াসামগ্রী উপহার দেবেন এবং নিজ হাতে সেলফি তুলবেন,এমন অভিজ্ঞতা তারা কোনো দিন ভুলবে না। সফরের ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করে তাদের সঙ্গে মিশে যাওয়া, খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া এবং আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষের মনও জয় করেন।