খুলনায় মো. মারুফ নামে একজন চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করা হয়। পরে তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে লাশ বাড়ির উঠানে পুঁতে গুম করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হত্যাকারী স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে স্ত্রী থানায় গিয়ে এ ঘটনা ফাঁস করে দেয় পুলিশের কাছে। এ তথ্যের সূত্র ধরে পুলিশ মুরাদ মোল্লা ও ফাল্গুনী খাতুন দম্পতিকে আটক করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নগরীর হরিণটানা থানার রেলসেতু সংলগ্ন বুলুওয়েল আবাসিক এলাকার মুরাদ মোল্লার বাড়িতে পুঁতে রাখা লাশটি মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের আটক করা হয়। চলতি বছরের রমজান মাসে (ফেব্রয়ারী) পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে চালক মারুফকে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করেছে আটককৃতরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন মিলন। ইজিবাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে মালিকের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের স্বীকার চালক মারুফের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। হরিণটানা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, মুরাদ মোল্লা ও ফাল্গুনী খাতুন দম্পতির মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া হতো। ঝগড়ার মাঝে তারা এই হত্যা নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করে। ফলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সোমবার সকালে মুরাদ তার স্ত্রী ফাল্গুনীকে মারধর করলে তিনি থানায় এসে তার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং মারুফ হত্যা নিয়ে পুলিশকে তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করে। এরপর তাদের দেখানো স্থানে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। ইজিবাইকটি তারা ভেঙ্গে টুকরো করে ভাঙ্গাড়ী হিসেবে বিক্রি করে দেয় বলেও স্বীকার করেছে। এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স অফিসার (যানবাহন) শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ছিনতাইকৃত ইজিবাইকটি নগরীর মুজগুন্নি এলাকার মোল্লা মো. মোস্তফা নামক এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত। তবে, তিনি ইজিবাইকটি খালিশপুরের জনৈক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন পুরাতন মালিককে নিয়ে পুলিশ নতুন ক্রেতা এবং চালক মারুফের পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করছে।