ছয় মাস পরিচর্যার পর ফাঁদে আহত বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) :
| আপডেট: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম | প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ছয় মাস পরিচর্যার পর ফাঁদে আহত বাঘিনী ফিরল সুন্দরবনে

দীর্ঘ ছয় মাসের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর অবশেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরল সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার 'ভাগ্যবান'। রোববার দুপুর একটায় বাঘিনীটিকে সুন্দরবনের আন্দারমনিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। খাঁচা খোলার পর প্রায় এক ঘণ্টা ইতস্তত করে শেষে এক লাফে চিরচেনা আবাসে মিলিয়ে যায় বনের এই রানী। বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য অবমুক্তস্থলের ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আগামী সাত দিন পর ক্যামেরা পরীক্ষা করে বাঘিনীর সর্বশেষ অবস্থান নিশ্চিত করবে বন বিভাগ। বাঘিনীকে অবমুক্ত করার আনন্দঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমির হোসেন চৌধুরী, খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্লাহ পাটোয়ারী, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. এম এ আজিজ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংবাদমাধ্যম কর্মীরা।

জানা যায়, সুন্দরবনে শিকারিদের পাতা ফাঁদ উদ্ধারে কঠোর অভিযান শুরু করেছিলেন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী। বনকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনের গভীরে পায়ে হেঁটে অভিযান চালিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত ফুট মালাফাঁদ ও সিটকা ফাঁদ উদ্ধার করেন। এসময় ফাঁদে আটকা জীবিত হরিণ, হরিণের মাংস এবং শিকারের সরঞ্জাম ও নৌকাও জব্দ করা হয়। তবে বনরক্ষীর স্বল্পতার সুযোগে শিকারিরা বনের গভীরে ফাঁদ পেতে রেখেছিল। সেই ফাঁদেই আটকা পড়ে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রহরী রয়েল বেঙ্গল টাইগার। গত ৩ জানুয়ারি ফাঁদে আটকা বাঘিনীর খবর পায় বন বিভাগ। পরদিন ৪ জানুয়ারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাঘ বিশেষজ্ঞ দল মারাত্মক আহত বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে ট্রাংকুলাইজিং বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাঘিনী সুস্থ হয়ে ওঠে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ জানান, দুপুর একটায় বনে ছেড়ে দেওয়ার পর বিকেল চারটায় অবমুক্তস্থল থেকে ২০০ মিটার দূরে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। বাঘিনী নদীর পাড় ধরে ঘুরে বেড়িয়েছে, যা থেকে মনে হচ্ছে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে। আগামী সাত দিন পর ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে বাঘিনীর সর্বশেষ গতিবিধি নিশ্চিত করা হবে বলে জানান ডিএফও। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টায় এই বাঘিনীকে সুস্থ করে বনে ফেরানো বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে