কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে। একই সঙ্গে কাতারের আমির, রাজপরিবার ও জনগণের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে কাতার দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে তিনি শোকবার্তায় স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
শোকবার্তায় মন্ত্রী শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনি কাতার সরকার, দেশটির রাজপরিবার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।”
এর আগে রোববার (১২ জুলাই) বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যার নেতৃত্বে কাতার একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বে সম্মানিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি কাতারের রাজপরিবার, সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানান।
রোববার (১২ জুলাই) কাতারের আমিরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুর খবর জানায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেন তাঁর ছেলে বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির হাতে।
শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর শাসনামলে দেশটি দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করে এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। একই সময়ে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা এবং সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার যাত্রাও তাঁর আমলেই শুরু হয়।