সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর মৌজায় পৈত্রিক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে আবু তুহিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই জমির প্রকৃত মালিক জুলফিকার আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং আদালতে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভুক্তভোগী জুলফিকার আলীর অভিযোগ, তাদের পৈত্রিক ৩টি দাগে মোট ৫৬ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে তার প্রয়াত বোনের অংশ হিসেবে ৭ শতক জমি নিয়ম অনুযায়ী তার ভাগ্নে পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই ভাগ্নে কৌশলে ওই ৭ শতক জমি স্থানীয় আফসার বিশ্বাসের ছেলে আবু তুহিনের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপরই শুরু হয় তুহিনের জমি দখলের তাণ্ডব। অভিযোগে বলা হয়, আবু তুহিন ওই ৭ শতক জমি নির্ধারিত দাগ থেকে দখল না করে অন্য দাগে দখল নেয় এবং সেখানে পাকা প্রাচীর তুলে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। কিন্তু ওই বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তুহিন জোরপূর্বক জুলফিকার আলীর মালিকানাধীন আরও ১.৫০ শতক জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণ শুরু করে। এতে বাধা দিতে গেলে আবু তুহিন তার দলবল নিয়ে জুলফিকার আলী ও তার বোন কানোয়ারা খাতুনের ওপর চড়াও হয়। মারধরের ফলে তারা গুরুতর জখম হন। শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, উল্টো আবু তুহিন বাদী হয়ে জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় একটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। ভুক্তভোগী জুলফিকার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী জমি ছিল ৩ দাগে, অথচ তুহিন জোরপূর্বক অন্য দাগে আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। এখন রাস্তা বানানোর নামে আরও ১.৫০ শতক জমি দখলের জন্য সে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।’ এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবু তুহিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী জুলফিকার আলী ও তার পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এর সু দৃষ্টি কামনা করেছেন। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।