রাজশাহীতে বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারি মাছ কেনাবেচা হচ্ছে মান্ধাতার আমলের হাত দাঁড়িপাল্লায়। খুচরা বাজারে ডিজিটাল দাঁড়ি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও পাইকারি বাজারে পুরনো এই ওজন পদ্ধতি এখনো বহাল রয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন মাছ চাষি ও উৎপাদকরা। এ ব্যবস্থায় লাভবান হচ্ছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
মাছ চাষিদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে এক মণ সমান ৪০ কেজি হলেও বাস্তবে পাইকারি বাজারে নানা ধরনের হাত দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়। ঢলনসহ ৪৪ কেজিতে মণ ধরা হয়। আবার দাঁড়ি হেলে থাকার কারণে আরো অন্তত চার কেজি চলে যায়। এভাবে প্রায় ৪৮ কেজি মাছ দিতে হয় এক মণ হিসেবে। ফলে প্রতি মণে অতিরিক্ত আট কেজি পর্যন্ত মাছ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে প্রতিদিনই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন মাছ চাষিরা।
সরকার সম্প্রতি মাছের বাজারেও হাতদাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে নির্ভুল ওজন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল দাঁড়ি ব্যবহারের নির্দেশনা দিলেও রাজশাহীর পাইকারি মাছের আড়তদাররা তা এখনো কার্যকর করেননি। মধ্যস্বত্বভোগী পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভবান করে দিতে বড় বড় হাতদাঁড়িতে ওজন করে মাছ বিক্রি করা হয়।
রাজশাহীর বাগমারার মাছ চাষি সোহেল রানা, মোহনপুরে এনামুল হক, ইসাহাক আলীসহ অনেক চাষিরা বলেন, আড়তে কোনো তদারকি হয় না। উপজেলা বা জেলা প্রশাসন নিয়মিত তদারকি না করার কারণে এবং প্রভাবশালী আড়তদারদের কারণে পুরনো পদ্ধতিতে মাছ ওজন করে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর তাতে ক্ষতির শিকার হচ্ছি আমরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই রাজশাহী মহানগরীর আমচত্বর, কোর্টবাজার, বায়া ও খড়খড়ি ও মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট এই পাঁচটি প্রধান পাইকারি বাজারে শুরু হয় মাছের বেচাকেনা। এসব এলাকায় প্রায় শতাধিক আড়তে পুকুরে চাষ করা রুই, কাতল, মৃগেল, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। প্রতিদিন এসব বাজারে গড়ে অন্তত চার কোটি টাকার তাজা মাছ কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে শুধু আমচত্বর বাজারেই প্রায় দুই কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
দুর্গাপুরের মাছ চাষি আবু বক্কর বলেন, ওজনে কারচুপির কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি আমরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন দিয়ে মাছ বিক্রি করতে হওয়ায় লাভের পরিবর্তে অনেক সময় লোকসানও গুনতে হচ্ছে। ফলে দ্রুত ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
বায়ার মাছ ব্যবসায়ী সুমন হোসেন বলেন, ডিজিটাল দাঁড়ি চালু হলেও আমরাও চালু করব। সবাই যেহেতু হাতদাঁড়িতে মাছ বিক্রি করে, আমরাও করি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পাইকারি মাছ বাজারে কেন ডিজিটাল দাঁড়ি ব্যবহার হচ্ছে না, সেটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।