রাজশাহীর বাগমারা থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদানের পর টানা ১০০ দিনে অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, ওয়ারেন্ট তামিল, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে বাগমারা থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের ফলে উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বাগমারা থানায় যোগদানের পর ওসি জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহৃত সাত মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে হারিয়ে যাওয়া ও অপহৃত মোট ৬৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে পরিচালিত অভিযানে চুরি হওয়া ১৪টি বৈদ্যুতিক মিটার উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলায় ১৯টি মোবাইল ফোন জব্দ এবং ১৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মাদকবিরোধী অভিযানে গত ১০০ দিনে মোট ৩০টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কেজি ১৫৫ গ্রাম গাঁজা, ৪৬ গ্রাম হেরোইন, ২৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৭৪১ বোতল দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রমেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে ৬৯টি জিআর নরমাল ওয়ারেন্ট, ১৭৭টি সিআর নরমাল ওয়ারেন্ট, ৯টি জিআর সাজা ওয়ারেন্ট এবং ৪১টি সিআর সাজা ওয়ারেন্ট তামিল করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার ১৩৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে চারটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি থানার পরিবেশ উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। থানা প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি প্রায় ১০০টি ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছ রোপণ করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, বাগমারার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাগমারা থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক, জুয়া, চুরি, ছিনতাই, মানবপাচারসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও বলেন, অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ বাগমারা গড়ে তুলতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ও জনসেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।