মির্জাগঞ্জে

আ'লীগ নেতার বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম | প্রকাশ: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
আ'লীগ নেতার বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর একতলা একটি ভবন এসকেভটর মেশিন দিয়ে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে আসবাবপত্র লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ বরগুনা - সুবিদখালী - কাঠালতলী - বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মাধবখালী ইউনিয়নে কাঠালতলী বাজার সংলগ্ন বসত বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটেছে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,  ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর মাধবখালী ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান লাভলু কাজী স্বপরিবারে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। বাড়ীতে তার মা একা বসবাস করতেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে তার মা অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন। বাড়ীতে কোন লোকজন না থাকায় শুক্রবার গভীর রাতে (আনুমানিক ২ টা ঘটিকা) এসকেভেটর মেশিন দিয়ে একতলা ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করে এবং অগ্নিসংযোগ করে চলে  যায় দুর্বৃত্তরা।  এবিষয়ে কথা বলতে ইউনিয়ন আ'লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে ইউনিয়ন আ'লীগ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর সহোদর কাজী মশিউর রহমান বাবলু তার নিজ ফেসবুকে বাড়ী ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবি ও একটি ভিডিও পোষ্ট করে লিখেন- "আমি লাইভে এসে বলেছিলাম যে আমি কাজী মশিউর রহমান বাবলু, আমার ভাই কাজি মিজানুর রহমান লাভলু সভাপতি ১ নং মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, বর্তমান চেয়ারম্যান,  আমাদের বাড়ি কিছু  দুষ্কৃতীরা ভাঙ্গার  জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমি প্রশাসনের কাছে এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম, প্রশাসন ওখানে এসে ফিরে গেছেন, কারণ হচ্ছে বিএনপি নেতা জনাব আলতাব হোসেন চৌধুরী নির্দেশে তার ভাই শাহিন চৌধুরী এবং পলাশ হালদার, মনির খন্দকার, সুমন তালুকদার টুনু, মহাসিন মেম্বার, ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মিরাজ, সহ অসংখ্য বিএনপি'র লোকজনের নেতৃত্বে, বেকু এনে রাতভর ভাঙচুর করে এবং বাসার সব মালামাল লুটপাট করে তারপর আগুন দেয় এবং ইসরাইল যেভাবে ফিলিস্তিনিতে আঘাত করছে ধ্বংসযজ্ঞ করছে ঠিক একই ভাবে দেখেন আপনারা ছবিতে বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলেছে, বাসায় আসবাবপত্র স্টিলের আলমারি এই আলমারির মধ্যে আমার ভাবির দশ বরি স্বর্ণ ছিল এবং আমার মায়ের সাত বরি স্বর্ণ ছিল আরো অনেক মূল্যবান কাগজপত্র ছিল,  এই আলমারি  ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মিরাজ পাঁচটা ভ্যানে করে ফ্রিজ এবং আরো মূল্যবান যত জিনিসপত্র ছিল  নিয়ে গেছে , কি বলবো আমরা একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করি আর সেই দেশের জনগণের ভোটের এমপি আলতাফ   হোসেন চৌধুরীর কর্মকাণ্ড দেখে অবাক হয়ে যাই, কিছু বলার ভাষা নেই, আপনারাই বিচার করুন।" এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শাহীন চৌধুরী পাশার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০০৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য রেজিষ্ট্রিকৃত জমি দখল করে চেয়ারম্যান বাড়ী নির্মান করে বসবাস করে আসছিল। এই জমি বা বাড়ী ভাংচুর নিয়ে আমার বা আমাদের কোন ইন্টারেস্ট নাই। 

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ রাসেল বলেন, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। বাড়ীটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। কে বা কারা এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে  তা তদন্ত করে দোষীদের  খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশকে বলেছি। এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুজ্জামান জানান, মাধবখালী ইউনিয়নের কাঁঠালতলীতে একটি বসত বাড়ীতে কে বা কারা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে এমন সংবাদ পেয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি,অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে