বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় একটি নাশকতা মামলাকে কেন্দ্র করে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া এবং তিনটি গরু নিখোঁজের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে নিজেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরসপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন গোয়ালঘরের মালিকপক্ষ।
ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহবধূ তানজিলা (২৩) জানান, তার স্বামী হাকিম শেখ, শ্বশুর বাবলু শেখসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামের ৩০-৩৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী আব্দুল আলী মোল্লার ছেলে তরিকুল ইসলাম মোল্লা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলার পর থেকে পরিবারের সব পুরুষ সদস্য পলাতক থাকায় তিনি একাই বাড়িতে ছিলেন।
তার অভিযোগ, শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুকুরের ডাকে ঘুম ভেঙে তিনি দেখতে পান মামলার বাদী তরিকুল ইসলাম মোল্লা ও তার ভাই আকবরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন তাদের গোয়ালঘরে আগুন দিচ্ছেন। বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে পাশের বাড়ির লোকজনকে ডেকে এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নেভানোর পর গোয়ালঘরে থাকা একটি গাভী, একটি বকনা বাছুর ও একটি এঁড়ে (ষাঁড়) বাছুরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবেশী আলামীন শেখ বলেন, “চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী আমাকে ডেকে গোয়ালঘরে আগুন লাগার কথা জানান। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উঠানে থাকা দুটি বালতির পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলি।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তরিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “কিছুদিন আগে আমাদের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় আমি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেছি। ওই মামলার আসামিরাই নিজেদের গোয়ালঘরের মশারিতে আগুন দিয়ে এবং গরুগুলো অন্যত্র সরিয়ে রেখে আমার ও আমার স্বজনদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আমি এ ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।” মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী রমজানুল হক বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।