রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ বলে ধারণা করা দুই ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে। তারা নিরাপদে থাকায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১০ জনের সবাই শেষ পর্যন্ত জীবিত রয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী এমভি সুন্দরবন ১২ লঞ্চের সঙ্গে কুমিল্লাগামী একটি নতুন ট্রলারের সংঘর্ষ হলে ট্রলারটি ডুবে যায়। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, ট্রলারের ১০ আরোহীর মধ্যে আটজন তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকি দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
পরে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে জানা যায়, নিখোঁজ বলে ধারণা করা দুই ব্যক্তি সাঁতরে বা অন্যভাবে নদীর অপর পাড়ে উঠে নিরাপদে ছিলেন। বিষয়টি প্রথমে সংশ্লিষ্টরা জানতে না পারায় তাদের নিখোঁজ মনে করা হয়েছিল। পরে তাদের সঙ্গীরাই ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি নিশ্চিত করলে অভিযান বন্ধ করা হয়।
পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু মো. সাজেদুল কবির জোয়ারদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক সদস্য বলেন, “প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তারা নিরাপদে অপর পাড়ে পৌঁছে গেছেন। তাই তাদের উদ্ধারের প্রয়োজন হয়নি এবং অভিযান সমাপ্ত করা হয়েছে।”
এর আগে নৌ পুলিশের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা জানান, গাজীপুরের কড্ডাবাজার থেকে নতুন তৈরি ট্রলারটি কুমিল্লার মুরাদনগরের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। সদরঘাট এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারের প্রপেলার কোনো কিছুর সঙ্গে আটকে গিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুন্দরবন ১২ লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে অভিযানের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যায়, নিখোঁজ বলে ধারণা করা দুই ব্যক্তি নিরাপদে রয়েছেন। এরপর উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করা হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সেটি এখনও উদ্ধার করা হয়নি।