সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি ছড়াতে শুরু করে। এর এক দিন পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিভিন্ন অংশে একটি কক্ষে ওই নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শুরুতে জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ভিডিওটি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে এমপি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে তাঁরা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, ওই সময় তাঁর গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যান। পরে তিনি ৫ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাঁদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন। এরপর ভাড়া করা গাড়িটি আটকে রেখে আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন, “আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এমপি আরও অভিযোগ করেন, “হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।”
ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে দাবি করে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রচার “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
এদিকে ভিডিওতে থাকা তরুণী এবং তাঁর বাবা মাসুম বিল্লাহও একই দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন এবং ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে। মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, তাঁর অফিসে অবস্থানকালে ভিডিওটি ধারণ করা হয় এবং এতে তাঁর শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত।
মরিয়ম খাতুনও বলেন, “উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে।” তিনি জানান, ওই দিন তাঁরা ঘুরতে গিয়ে তাঁর বাবার অফিসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আজিজুর রহমান বলেন, “এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
গাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ভিডিওটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছিল এবং কার মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি।