প্রভাত স্যার শুধু শিক্ষক নন, একজন অভিভাবক, নৈতিক শিক্ষার বাতিঘর

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
প্রভাত স্যার শুধু শিক্ষক নন, একজন অভিভাবক, নৈতিক শিক্ষার বাতিঘর

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রভাত কুমার নন্দী। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বয়স ১৬১ বছর। প্রতিষ্ঠাকাল ১৮৬৫ সাল। পুঠিয়ার রানী মনোমোহিনীর নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ অসংখ্য আলোকিত মানুষ গড়ে তুলেছে। সেই ইতিহাসের পাতায় নীরবে নিজের নাম লিখে রেখেছেন এই বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক প্রভাত কুমার নন্দী। প্রায় এক যুগ আগে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। অথচ আজও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আড্ডা, পুনর্মিলনী কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্মৃতিচারণে বারবার ফিরে আসে প্রভাত কুমার নন্দী স্যার। যাঁকে একদিন ভয় পেত শিক্ষার্থীরা , আজ তাঁকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন শিক্ষার্থীরা।

স্কুলজীবনে প্রভাত কুমার নন্দী ছিলেন শৃঙ্খলার প্রতীক। ইংরেজি ক্লাসে অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তাঁর কঠোরতা অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তখন ভয়ের কারণ ছিল। কিন্তু জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর তাকে উপলব্ধি করেন সেই শিক্ষার্থীরা।

দেশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অকপটে স্বীকার করেন, জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন এই শিক্ষক।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রিয় শিক্ষককে নিয়ে হাবিবুল হক একটি আবেগঘন পোস্ট করেন। তিনি লিখেছেন, স্কুলজীবনের সেই শাসন, বকুনি, পরামর্শ আর অকৃত্রিম স্নেহ আজও তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘর ভরে ওঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণে। 

কেউ লিখেছেন-স্যারের হাতে শাস্তি পেয়েছি, কিন্তু আজ বুঝি, সেটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। আরেকজন মন্তব্য লিখেছেন, প্রভাত স্যার শুধু ইংরেজি শেখাননি, মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। আবার কেউ-কেউ লিখেছেন, আজও স্যারের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে সেই স্কুলের ছাত্র বলেই মনে হয়। শত শত মন্তব্যে যেন ফুটে উঠেছে একজন শিক্ষকের প্রতি একটি প্রজন্মের অকৃত্রিম ভালোবাসা।

প্রভাত কুমার নন্দীর প্রাক্তন ছাত্র বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে প্রভাত কুমার নন্দী স্যারের অবদান শুধু একজন ইংরেজি শিক্ষক নয়, তিনি একটি প্রজন্মের নৈতিক শিক্ষার বাতিঘর। 

আড়ানী সরকারি  মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, সময়ে নিয়মে আজ বার্ধক্য এসেছে প্রভাত কুমার নন্দী স্যারের জীবনে। নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। চলাফেরায় লাঠির সহায়তা নিতে হয়। তবুও তাঁর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা এতটুকু কমেনি। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সুযোগ পেলেই তাঁর খোঁজ নেন। কেউ বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন, কেউ ফোনে কথা বলেন, আবার কেউ দূরে থেকেও তাঁর সুস্থতা কামনা করেন। প্রভাত স্যার কেবল একজন শিক্ষক নন , তিনি একজন অভিভাবক, একজন পথপদর্শক, একজন শিক্ষক, এবং একটি প্রজন্মের বিবেক ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে