কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পদ্মাসহ প্রধান তিনটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতোমধ্যে পদ্মার খরস্রোতে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়াসহ একাধিক এলাকায় শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শুধু পদ্মাই নয় পানি বেড়েছে এলাকার মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীতেও। তবে পদ্মার আগ্রাসন সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে কৃষকের ফসল। বিশেষ করে পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল হারিয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে কয়েকশত কৃষক। ভাঙনের গতি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আবাদি জমির পর এবার বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রাতে ঘুম হারাম হয়ে গেছে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের।
শনিবার সকালে ভাঙনকবলিত এসব এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের বৃহত্তর কুষ্টিয়া থেকে নির্বাচিত একমাত্র বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং পানিবন্দী ও আতঙ্কিত মানুষের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে আরও জিও বালি ভর্তি ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর নির্দেশ দেন এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন বরাদ্দের দাবি জানান। এমপি আশ্বাস দিয়ে বলেন,সাময়িক সুরক্ষার পাশাপাশি নদী ভাঙন থেকে এলাকা গুলোকে চিরতরে রক্ষা করতে টেকসই নদী শাসনের প্রয়োজন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ আদায়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি সেক্রেটারি আলহাজ্ব বিল্লাল হোসেন, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃসাইফুল ইসলাম (শাহীন), সেক্রেটারি আহমেদ রাজু, বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মোঃসাইদুর রহমান, মাহাবুল হক, রাশেদুল হক শামীম, বেনজির আহমেদ বাচ্চু, মুনি লস্কর, মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমান মজনু। এ ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এবিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর ইসলাম জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে কিছু পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাউবো কাজ করছে এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী জিও বালি ভর্তি ব্যাগ ফেলার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।