ক্ষমতার অপব্যবহার প্রশাসকের

খুলনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে কেসিসি'র ঠিকাদারি বেশিরভাগ কাজ বণ্টন

এফএনএস (এম এ আজিম; খুলনা) :
| আপডেট: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম | প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
খুলনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে কেসিসি'র ঠিকাদারি বেশিরভাগ কাজ বণ্টন

একটি প্রবাদ আছে, জোর যার মুল্লুক তার সেই ক্ষমতার অপব্যবহার প্রয়োগ করে খুলনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে কেসিসি'র বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজ। এসব কাজ করছেন দলটির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা। যেটি তিন মাস ধরে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়।

৪২টি ঠিকাদারি কাজের নথি যাচাই এবং মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া প্রায় সবাই কেসিসির প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অনুসারী। ‘জরুরি মেরামত’ নাম দিয়ে কাজগুলো দেওয়া হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে। 

সরকারি ক্রয় বিধিমালায় (পিপিআর) ভৌত কাজের কোটেশন আহ্বানের বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইটে ও নোটিশ বোর্ডে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এসব কাজের নোটিশও বোর্ডে দেখা যায়নি। বড় কাজগুলো আরএফকিউ পদ্ধতিতে করতে ভেঙে পাঁচ লাখ টাকার নিচে ছোট প্যাকেজ করা হয়েছে।

বেশির ভাগ প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে মাত্র আধা শতাংশ কম দরে। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম দরে কাজগুলো সম্পাদন করা যেত। কম দরে কাজ দেওয়ায় বিএনপি নেতারা লাভবান হলেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, নিয়মের ব্যত্যয় না হলেও কাজটি নীতিগতভাবে ঠিক হয়নি। প্রশাসক নিজ অনুসারীদের কাজ দিয়ে স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন। এত বড় গণঅভ্যুত্থানের পরও এই সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। নগর ভবনে আগেও স্বজনপ্রীতি ছিল, এখনও ভিন্ন আঙ্গিকে হচ্ছে। তবে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তা বছরের পর বছর ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে ছিল। কাজগুলো দ্রুত করতে পিপিআর অনুযায়ী কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। টেন্ডারে গেলে নোটিশ, জমা ও বাছাইয়ে দুই মাস চলে যেত। এখন এক মাসের মধ্যেই বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। 

যেভাবে কাজ দেওয়া হয়েছে : জরুরি পণ্য ক্রয় ও ভৌত কাজের জন্য পিপিআরের বিধি অনুযায়ী আরএফকিউ বা কোটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত ব্যয় পাঁচ লাখ টাকার নিচে হলে এ ধরনের কাজ করা হয়। এর আগে কেসিসির বিভিন্ন জরুরি কাজ এভাবে করা হয়েছে। এবার এই ‘সুযোগ’টি নিচ্ছেন মঞ্জুর অনুসারীরা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগে এবং অর্থবছরের বিভিন্ন সময় বেশ কিছু ভোটকেন্দ্র মেরামত, অফিস রং করাসহ জরুরি ভিত্তিতে ১৩টি কাজ কোটেশন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। নির্বাচনের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এপ্রিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন ভৌত সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন শুরু হয়। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪২টি প্যাকেজের কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশের অপেক্ষায় রয়েছে ৩৭টি। জরুরি মেরামতে কাজের আবেদন জমা রয়েছে আরও প্রায় ৬০টি।

কেসিসির হিসাব বিভাগের সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বিভিন্ন ধাপে ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ পায় কেসিসি। এডিপির থোক বরাদ্দের টাকায় এসব কাজ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেসিসির এক প্রকৌশলী বলেন, বিধি অনুযায়ী কোটেশনের জন্যও তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজের দর আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বাস্তবতা হচ্ছে, প্রাক্কলন অনুমোদনের সময় প্রশাসক বলে দেন কাজটি কে করবেন। তখন ওই ব্যক্তি তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স এনে নিজেই দর সাজিয়ে জমা দেন। কোটেশনের সব কাজ এভাবেই দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এর আগে অন্য মেয়ররা এডিপির থোক বরাদ্দের টাকা ভাগ করে স্কিম জমা দিতে বলতেন। সব কাজই দরপত্রের মাধ্যমে হয়েছে। থোক বরাদ্দের টাকায় ব্যাপক হারে কোটেশনে কাজ করানো এবারই প্রথম।

লাইসেন্স অন্যের, বাস্তবায়নে বিএনপি নেতারা

নগরীর মতিয়াখালী খালপাড় সড়কটি অনেক দিন ধরেই ভাঙাচোরা। সড়কটি মেরামতের জন্য গত ১৪ মে নিউ নীরব এন্টারপ্রাইজকে চার লাখ ৯০ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। সময়মতো কাজটি শেষ হয়েছে। এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কাজটি বাস্তবায়ন করছেন খুলনা মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান নাসিম। তিনি বলেন, এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য কাজটি করছি। 

নগরীর টুটপাড়া তালতলা হাসপাতালের পাশে বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের পাশাপাশি দুটি গলি সম্প্রতি মেরামত করা হয়েছে। মসজিদ লেনের প্রথম অংশের ব্যয় ছিল চার লাখ ৯৮ হাজার টাকা। মেসার্স অন্তু এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তবে কাজটি করেছেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক তানভীর ইসলাম অয়ন। প্রতিবেদকের কাছে কাজের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

তালতলা হাসপাতালের পাশে মসজিদ লেনের দ্বিতীয় অংশের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে লোকমান এন্টারপ্রাইজের নামে। এই কাজের ব্যয় ছিল চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কাজটি করেছেন খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম রাজিবুল ইসলাম বাপ্পী। বাপ্পী ও অয়ন দুজনই মঞ্জুর অনুসারী। বাপ্পী বলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো ঠিকাদারি কাজটি করেছি। কাজের মানে সবাই সন্তুষ্ট।

টুটপাড়া মেইন রোড বাইলেন ও ড্রেন (ঘোষের ভিটা) উন্নয়নকাজের কার্যাদেশ ছিল মেসার্স তন্দ্রা এন্টারপ্রাইজের নামে। কাজটি করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সঠিকভাবে কাজ করায় কোনো লাভ হয়নি।

চানমারী ডা. আলতাফ হোসেন রোড বাইলেন মেরামতের কার্যাদেশ মেসার্স ফয়সাল ট্রেডার্সের নামে। চার লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের কাজটি করেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হাওলাদার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাস্তাটি পড়ে ছিল। প্রশাসককে দিয়ে কাজ বানিয়ে আমিই করেছি। এলাকার মানুষের উপকার হয়েছে।

নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান আহমেদ রোড বাইলেন উন্নয়নের কার্যাদেশ দেওয়া হয় মেসার্স নূর কনস্ট্রাকশনকে। কাজটি করেছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন লিটন। একই ওয়ার্ডে প্রফেসর রোকন উদ্দিন সড়ক বাইলেনের কার্যাদেশ দেওয়া হয় আরোশ কনস্ট্রাকশনকে। এই কাজ করেছেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মাসুদ রেজা। তারা দুজনেই প্রশাসক মঞ্জুর অনুসারী।

জানতে চাইলে জাকারিয়া হোসেন লিটন বলেন, সাবেক সেক্রেটারি জব্বার ভাই, আমাকে ও মাসুদকে তিনটি কাজ দেওয়া হয়েছিল। কাজগুলো ভালোভাবেই শেষ হয়েছে। এই সপ্তাহে আরও কয়েকটির কার্যাদেশ হবে।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, লবণচরা ইব্রাহিম মিয়া মাদ্রাসার পাশে কাঠের ব্রিজের কাজটি করেছেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন। এই কাজের কার্যাদেশ ছিল আলী আজমান এন্টারপ্রাইজের। দাদা ম্যাচ কাদেরী জামে মসজিদের অজুখানা মেরামতের কার্যাদেশ ছিল সিয়াম এন্টারপ্রাইজের নামে। মসজিদ কমিটির পক্ষে কাজটি করেছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ আহমেদ।

পুলিশ লাইন পূর্ব গলি বাইলেন-২ মেরামতের কার্যাদেশ ছিল কামরুল এন্টারপ্রাইজের নামে। কাজটি করেছেন ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মনা।  খুলনা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দুটি ধারা রয়েছে। কাজ পাওয়া ব্যক্তিরা মঞ্জুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, এভাবে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি দেয়, সেই দায় তার। এখানে আমার কিছু বলার নেই। তবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ছোট ঠিকাদাররা অন্যের লাইসেন্সে কোটেশনের কাজগুলো করে। বড় কাজ করার সামর্থ্য তাদের নেই। বড় ঠিকাদাররাও ছোট কাজ করতে চান না। সেভাবেই অন্যের লাইসেন্সে ছোট ঠিকাদাররা কাজগুলো করেছেন। এরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার সঙ্গে থাকে বলে কাজ পেয়েছে, বিষয়টি এমন না। লাইসেন্স ব্যবহার প্রসঙ্গে দুই ঠিকাদার জানান, বেশির ভাগই পরিচিত মানুষ। লাইসেন্স চাইলে না করতে পারি না।

নেতাদের লাভ, ক্ষতি কেসিসির

সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে কেসিসির ঠিকাদাররা প্রাক্কলন মূল্যের ৫ শতাংশ কম দরে কাজ করেন। উন্মুক্ত দরপত্রে ঠিকাদাররা প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কম দর দেন। এতে অনেক টাকা বেঁচে যায় কেসিসির। কিন্তু কোটেশনে বেশির ভাগ কাজেই প্রাক্কলন মূল্যের আধা শতাংশের কমে কাজ দেওয়া হয়েছে। 

নগরীর চানমারী এলাকার কোকা-কোলা রোড বাইলেন মেরামতের ব্যয় প্রাক্কলন ছিল চার লাখ ৯২ হাজার টাকা। গত ১৪ মে মাত্র দশমিক ৪১ শতাংশ কমে চার লাখ ৯০ হাজার টাকায় মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

কাজটি করেছেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হাওলাদার। গত ২২ জুন তিনি বিল পেয়েছেন। সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে কাজটি দেওয়া হলে ৫ শতাংশ টাকা হিসাবে ২৪ হাজার ৬০০ টাকা বেঁচে যেত কেসিসির। 

নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডাক্তারপাড়া জামে মসজিদ মেরামতের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় তিন লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। গত ২০ মে মাত্র দশমিক ৬৬ শতাংশ কম দরে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পৃথা এন্টারপ্রাইজ হলেও কাজটি করেছেন সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাগর। গত ১৮ জুন তিন লাখ ৭৯ হাজার টাকা বিল তুলেছেন তিনি। সাগর বলেন, মসজিদের কাজে কোনো ফাঁকি দিইনি। মুসল্লিরা আমার প্রতি সন্তুষ্ট। 

হয়নি ক্রয় নীতিমালা মানা : সরকারি ক্রয় নীতিমালায় বাধ্যতামূলকভাবে কোটেশনের অনুরোধপত্র বা নোটিশ তৈরি করে তা নিজস্ব নোটিশ বোর্ড, ওয়েবসাইট এবং জনসমক্ষে বহুল প্রচারিত স্থানে প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। কেসিসির পূর্ত বিভাগের নোটিশ বোর্ডে একটি কাজের নোটিশও দেখা যায়নি। ওয়েবসাইটেও এ ধরনের কোনো নোটিশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। যার কারণে বিএনপি নেতারা ছাড়া এই কাজ সম্পর্কে অন্য কেউ জানতে পারেননি। 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, উচ্চতর উন্মুক্ত দরপত্র এড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো বড় কাজকে কৃত্রিমভাবে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা যাবে না। কিন্তু কেসিসির লিনিয়ার পার্কের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে এই বিধান মানা হয়নি। 

রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, পার্কের ২৩৭ ফুট প্রাচীর নির্মাণে মোট ব্যয় হচ্ছে প্রায় পৌনে ১০ লাখ টাকা। কোটেশনে করার জন্য কাজটি দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে লিনিয়ার পার্কের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ প্রথম অংশ রাইয়ান ট্রেডার্স ও দ্বিতীয় অংশের কাজ রিফাত এন্টারপ্রাইজের নামে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। দুটির ব্যয় যথাক্রমে চার লাখ ৮৫ হাজার ও চার লাখ ৯৩ হাজার টাকা। দুটি কাজই করছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু। তিনিই পার্কটি পরিচালনা করছেন।

এব্যাপারে পিয়ারু বলেন, পার্কের সীমানাপ্রাচীর না থাকায় মালপত্র চুরি হয়। প্রশাসককে বলার পর তিনি মেরামত করার নির্দেশ দেন। নিজেদের কাজ এ জন্য সব ১ নম্বর মালপত্র দিয়ে ভালোভাবে করছি।

ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, নোটিশ বা প্যাকেজ পূর্ত বিভাগ তৈরি করে। তারাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে। 

কেসিসির পূর্ত শাখার কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, বিধিতে থাকলেও অতীত ও বর্তমানে কখনোই কোটেশনের কাজের নোটিশ বোর্ডে ঝোলানো হয়নি। 

কোটেশনে অন্য কাজ স্থবির : গত দুই সপ্তাহের একাধিক দিন কেসিসির পুরোনো ভবনের পূর্ত শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, বিএনপি নেতাকর্মীর ভিড়, বিশেষ করে উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারীদের কক্ষে জটলা লেগেই থাকে। সবার হাতেই উন্নয়নকাজের আবেদনপত্র। 

এক উপসহকারী প্রকৌশলী জানান, এলাকার সড়ক সংস্কার বা যে কোনো কাজ করার অনুরোধ করে প্রশাসকের কাছে আবেদন লিখতে হয়। আবেদনের ওপর প্রশাসক নির্দেশনা লিখে দিলে সে অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন তৈরি করা হয়। প্রশাসক সেটি অনুমোদন করার পরে কে কাজ করবে, ঠিক হয়। এই পুরোটা সময় তদবিরকারী নেতারা অফিসে বসে থাকেন। 

তিনি বলেন, প্রশাসক সব আবেদনেই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এমন ২০-২৫টি আবেদন প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে। একটি প্রাক্কলন তৈরি করতে ওই স্থানে যেতে হয়, মাপ নিয়ে কম্পিউটারে বসে কাজ করতে অনেক সময় লাগে। পুরোটা সময় তদবিরকারীরা পেছনে ঘুরতে থাকে। তাদের যন্ত্রণায় অন্য কাজ করার উপায় নেই। বিষয়টি নিয়ে পূর্ত বিভাগের সবাই বিরক্ত।

এ ব্যাপারে সিটি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দীর্ঘদিন মানুষ অভাব-অভিযোগ জানাতে পারেনি। এখন তারা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসছে। আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। তিনি দাবি করেন, যত কাজ করা হচ্ছে, একটিও অপ্রয়োজনীয় নয়। কোনো কাজের মান খারাপ হয়নি। কাজ হওয়ায় মানুষ খুশি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে