বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ থাকবে, সেখানেই দেশ কাজ করবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনীতিতে বাংলাদেশ অনুমাননির্ভরভাবে কাজ করে না। বাস্তবতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা বা প্রচারণার ওপর ভিত্তি করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হয় না বলেও জানান তিনি।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, “কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘জিরো-সাম গেম’ নয়। একজনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, আমরা কখনোই সেটা করব না।”
তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ার অর্থ অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়া নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সব দেশের সঙ্গেই আমাদের নিজস্ব স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে এবং স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে আমরা সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। কারও সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হওয়ার মানে এই নয় যে, আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে।”
বাংলাদেশের সঙ্গে শুধু একটি দেশের নয়, বহু দেশের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা তো স্ত্রী এবং সতীনের মধ্যে মারামারি নয় ভাই! এটা হচ্ছে স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক। যেখানে আমাদের স্বার্থ থাকবে, আমরা সেখানেই যাব।”
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, নতুন প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা এবং এ বিষয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্বেগের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও বেশি অংশীদারত্ব, বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা এবং চীনের সঙ্গে কথিত ‘করিডোর’ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফর অত্যন্ত ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেলে সেই সফরও ভালো হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “চীনের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ভালো একটি সফর হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতে যান, আমরা আশা করব সেই সফরটিও অত্যন্ত ভালো হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডোনাল্ড লু এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। এসব মতবিনিময়ের মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায়, “মূলত এই মতবিনিময়গুলোর মাধ্যমেই আমরা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাচ্ছি।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে গিয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার নীতি অনুসরণ করবে না বাংলাদেশ। জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে একসঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও উন্নত করাই সরকারের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য।