১৬ হাজার কোটি টাকায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
১৬ হাজার কোটি টাকায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় পাঁচ দেশের ছয়টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এসব তেল কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এই অর্থ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব বাজেট থেকে বহন করা হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল), থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে জি-টু-জি চুক্তির আওতায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।

অনুমোদিত প্রস্তাবে মোট ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মধ্যে ৯ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল, ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন জেট এ-ওয়ান, ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১ লাখ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন-৯৫ (আনলোডেড) এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন মেরিন ফুয়েল রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, গ্যাস অয়েলের প্রতি ব্যারেলে ৯ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার, জেট এ-ওয়ানের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ১৫ মার্কিন ডলার এবং গ্যাসোলিন-৯৫ (আনলোডেড)-এর ক্ষেত্রে ৮ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফার্নেস অয়েলের জন্য প্রতি মেট্রিক টনে ৬৬ মার্কিন ডলার এবং মেরিন ফুয়েলের জন্য প্রতি মেট্রিক টনে ৮৫ মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম ধরা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একই ধরনের জি-টু-জি চুক্তির আওতায় ১২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন গ্রেডের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় এবার আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে।

জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি বৈঠকে বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাস (রিভার)’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের নেতৃত্বাধীন যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ যৌথ উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে রয়েছে আহাদ বিল্ডার্স।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দেশব্যাপী সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার বাফার গুদাম নির্মাণে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ এমবিএল-আরইএল যৌথ উদ্যোগের অনুকূলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (উত্তর) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সংশোধিত সমন্বিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সমন্বিত ট্যারিফ ৪ দশমিক ০৯৪৫ মার্কিন সেন্ট বা ৫ দশমিক ০২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসাবের ক্ষেত্রে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর, ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর এবং ইকুইটির ওপর ৬ শতাংশ মুনাফার হার বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৮০ পয়সা এবং প্রতি এক হাজার স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট (এসসিএফ) গ্যাসের মূল্য ৪৩৮ টাকা ৯১ পয়সা ধরা হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

চট্টগ্রামের মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাব-জোন ৬, ৭, ১১ ও ১৮-এ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণে ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ মনিকো লিমিটেডকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

একই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্যাকেজ ডব্লিউডি-৪এ-বিএসএমএসএন-বেজা প্রকল্পে ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের অনুকূলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে পরামর্শক সেবার ব্যয় ৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার চেইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ইউশিন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ এ পরামর্শক সেবা দিচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে