কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এইচ/২৯ ব্লকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মোহাম্মদ জুবায়ের (৩৪) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহত জুবায়ের কথিত আরসা এর সদস্য ছিলেন। নিহত জুবায়ের ওই ব্লকের বাসিন্দা রহমত উল্লাহর ছেলে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোররাতের দিকে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি জুবায়েরকে তার বসতঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তার মৃত্যু হয়।
১৪ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানী পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা দলবদ্ধভাবে জুবায়েরের ওপর গুলিবর্ষণ করে দ্রুত সরে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় কথিত আরসা ও আরএসও-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ইরানী পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
১৪ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনি কথিত আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি কথিত আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।