অভিযোগ করায় হামলার শিকার স্বজনসহ সাংবাদিকরা

জামালপুরে খাদ্যনালী কেটে ফেলায় রোগী মৃত্যু

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০১:২১ পিএম
জামালপুরে খাদ্যনালী কেটে ফেলায় রোগী মৃত্যু

জামালপুরে খাদ্যনালী কেটে ফেলায় রোগী মৃত্যু, অভিযোগ জানাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নিহতের স্বজনসহ সাংবাদিকরা। স্থানীয়রা জানায়,জামালপুর শহরের সরদারপাড়া  অবস্থিত বেসরকারি এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় জেরিন (২৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুর হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ করতে এসে হাসপাতালের স্টাফদের হামলার শিকার হয়েছেন মৃতের স্বজনরা। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের উপরও তারা হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের আহত করে।

বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বেসরকারী এম. এ রশিদ হাসপাতালে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মৃত জেরিনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন (৩৫) জানান, গত ৯ জুলাই তার স্ত্রীর পেটে সীস্টের ব্যাথা নিয়ে জামালপুরের এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দিলে ডা: হারুন অর রশিদের তত্ত্বাবধানে সীস্টের অপারেশন হয়। অপারেশনের পর প্রথম দিন রোগী স্বাভাবিক থাকলেও অপারেশনের দ্বিতীয় দিন থেকে পেট এবং পেটের চামড়া ফুলে যেতে থাকে। স্ত্রী জেরিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকরা সাতদিন রোগীকে রেখে দেয়। এরপর রোগীর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে ১৬ জুলাই ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারি অপারেশনের সময় আমার স্ত্রী জেরিনের খাদ্যনালী কেটে ফেলায় খাবার লিক হয়ে পেটে মারাত্মকভাবে ইনফেকশন হয়েছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালেও আরেকটি অপারেশন করলেও রোগীর অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। উল্টো সেখানেও ছয়দিন রাখার পরে ২৩ জুলাই আমাদেরকে জানানো হয় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ইউনাইটেড এবং এম. এ রশীদ হাসপাতাল একই মালিকানাধীন হওয়ায় তারা আমাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি। তিনি আরও বলেন, স্ত্রীকে দাফন করে আজ দুপুরে এম. এ রশীদ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে আসলে হাসপাতালের স্টাফরা আমাকে ও আমার স্বজনদের উপর হামলা করে। এ সময় ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্টাফরা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে।

হামলার শিকার একুশে টিভির সাংবাদিক খন্দকার রাজু আহমেদ ফুয়াদ জানান, এম. এ রশিদ হাসপাতালে রোগী মৃতুর ঘটনায় স্বজনরা হাসপাতালে গেলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে আমরা বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী সেখানে যাই। আমরা মৃত রোগীর স্বজনদের বক্তব্য নেয়ার সময় হাসপাতালের স্টাফরা নিহতের স্বজনদের উপর হামলা করে। পরে গণমাধ্যমকর্মীরা হামালার বিষয়ে জানতে চাইলে স্টাফরা আবার আমাদের (সাংবাদিকদের)উপর হামলা চালিয়ে আহত করে। এ বিষয়ে এম. এ রশীদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা  দীর্ঘ সময় সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন বক্তব্য না দিয়ে গা-ঢাকা দেয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে