দেশজুড়ে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় শনিবার (১ আগস্ট) সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে পুলিশ সদর দফতর। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বোমা-আতঙ্ক ও সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধারের ঘটনার প্রেক্ষাপটে পুলিশকে জারি করা সতর্কতা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং এটি নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেওয়া একটি ‘রিমাইন্ডার’ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
ডিবি প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, সম্প্রতি বোমা বিষয়ে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। এই অবস্থায় মাঠ পর্যায়ে পুলিশের যানবাহন এবং পুলিশ সদস্যরা যেন আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করেন—এ জন্যই সিনিয়র অফিসাররা এমন বার্তা দিয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যরা নিজেদের ও সরকারি সম্পদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। তারা যেন দায়িত্ব আরও সতর্কভাবে পালন করেন সেটাই বলা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এমনিতেই সতর্ক থাকি। এটা আরও বাড়ানো হয়। এছাড়া অতি সম্প্রতি বোমার ঘটনা ঘটেছে। বোমা আতঙ্কও ছড়ানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যেন সবাই আরও একটু সতর্ক থাকেন, এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুষ্কৃতকারীরা পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে—গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি বার্তায় বলা হয়, পুলিশের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই। বিশেষ করে ডিউটির সময় এবং ডিউটি শেষে পার্কিং করা যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, ডিউটিরত কোনো যানবাহন সাময়িকভাবে থামানোর প্রয়োজন হলে সেটি অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে এবং পুলিশ সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চালক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া যানবাহন ফেলে রাখা যাবে না। অর্থাৎ আনঅ্যাটেন্ডেড অবস্থায় কোনো পুলিশি যানবাহন রাখার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস, অফিস কম্পাউন্ড কিংবা অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে রাখা সব সরকারি যানবাহনের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বার্তায় বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটের কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।