ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) :
| আপডেট: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম | প্রকাশ: ৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বিভিন্ন দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরির কারখানা প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানির শত শত শ্রমিক একত্রিত হয়ে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট)  সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিকদের এ কর্মসূচি চলাকালে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ৪-৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার, থানার অফিসার ইনচার (ওসি) মো. আশাদুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে অনিয়ম দূর করা, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, অকারণে শ্রমিক ছাটাই বন্ধ, শ্রম আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করা ইত্যাদি।

দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগদান না করে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নেন। শত শত শ্রমিক একত্রিত হয়ে ব্যস্ততম ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সড়কের উভয় পাশে মালবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন ধরণের শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় পাবনা-ঈশ্বরদী, ঈশ্বরদী-রাজশাহী, পাবনা-কুষ্টিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ। এতে ৪-৫ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এ দিকে ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) থানার ওসি, বিএনপি নেতা প্রাণ-আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে কয়েকজন শ্রমিক নেতা ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এক সপ্তাহের জন্য কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দেন কোম্পানি কর্মকর্তারা। দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাবার পরপরই শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।

প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের কালার বিভাগের হেলপার ও শ্রমিক আন্দোলনের সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন জানান, কারখানায় দীর্ঘদিন কাজ করলেও বেতন বাড়ানো হয় না। ছুটির দিনেও আমাদের কাজ করতে হয়, কোনো কারণ ছাড়াই যখন-তখন শ্রমিক ছাটাই করেন কর্মকর্তারা। প্রতিবাদ করা হলেও কর্মকর্তারা কর্ণপাত করেন না। এমনকি খাবারের সময়টাও ওভারটাইমের (ওটি) সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যা অত্যন্ত শ্রমিকদের জন্য অপমানজনক। তিনি বলেন, ‘কোম্পানির দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তা আজকের এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

তিনি আরও বলেন, ‘এ সব অনিয়ম বন্ধ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ, কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এক সপ্তাহ কারখানা বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিক করে আমাদের জানাবেন। আমাদের উত্থাপিত দাবি মেনে নেওয়া হলে আমরা কাজে ফিরবো। তা না হলে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

জানা যায়, প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস কোম্পানিতে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত। এর মধ্যে বেশির ভাগ নারী শ্রমিক। কোম্পানির এ কারখানাটিতে ভ্যানিটি ব্যাগ তৈরি করা হয়।

প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টস লিমিটেডের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) জাকির হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহ কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে আলোচনা করে শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক অবরোধ করে উপজেলার দাশুড়িয়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল পাবনা প্রোডাক্টসের শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। তবে কোম্পানির কর্মকর্তারা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে বলেছেন। কথা বলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তারা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করলে তারা সড়ক অবরোধ তুলে নেন। এরপর সড়কে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে