সৈয়দপুরে স্মার্ট মিটার নিয়ে বাড়ছে জনঅসন্তোষ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
সৈয়দপুরে স্মার্ট মিটার নিয়ে বাড়ছে জনঅসন্তোষ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ডিজিটাল প্রিপেইড (স্মার্ট) বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকের মধ্যে। গ্রাহকদের দাবি, আগের পোস্টপেইড মিটারের তুলনায় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও বর্তমানে অনেক বেশি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, রিচার্জ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যালেন্স দ্রুত কমে যায়। প্রতি মাসে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হওয়ায় অনেক পরিবার সংসারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ থাকলেও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ায় তারা এখন নীরব প্রতিবাদ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাট, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য চার্জ কেটে নেওয়ার পদ্ধতি সাধারণ গ্রাহকের কাছে স্বচ্ছ নয়। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হলো এবং কোন খাতে কত টাকা কাটা হলো, তা সহজে বুঝতে পারেন না তারা। এতে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস আরও বাড়ছে।

অনেক গ্রাহক জানান, নতুন সংযোগ বা মিটার পরিবর্তনের সময় তারা আর প্রিপেইড মিটার নিতে আগ্রহী নন। বরং আগের পোস্টপেইড মিটারই ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলছেন। তাদের ভাষায়, "স্মার্ট মিটার আমাদের জন্য স্মার্ট নয়, বরং অতিরিক্ত আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে সেই প্রযুক্তি যদি সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাই গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিল গণনার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে একাধিক গ্রাহক নেসকোর স্থানীয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি বলে দাবি করেছেন। এতে জনমনে অসন্তোষ আরও বাড়ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নেসকো কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থারও এ বিষয়ে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ নিয়ে নেসকোর সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কর্মকর্তার কোন পরিস্কার মন্তব্য নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে