ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছিনতাইকারীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন উগান্ডা জাতীয় দলের ফুটবলার ও এসসি ভিলার অধিনায়ক ডেভিড ওওরি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৭ বছর। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার উপশহর মাকিন্দিয়েতে নিজ বাসার কাছেই হামলার শিকার হন ওওরি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি প্রতিরোধ করেন। এতে হামলাকারীরা রাস্তার পেভিং স্টোন (পাথরের ব্লক) দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাম্পালার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ওইদিনই তিনি মারা যান। ওওরির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার ক্লাব এসসি ভিলা। এক বিবৃতিতে ক্লাবটি জানায়, ‘আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা শুধু একজন ফুটবলারকে হারাইনি, হারিয়েছি একজন নেতা, একজন ভাই এবং একজন প্রিয় বন্ধুকে। তার পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। শান্তিতে ঘুমাও, অধিনায়ক।’ উগান্ডা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও ওওরির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি তাকে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা ও উজ্জ্বল তারকা হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, ২০২১ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে জাতীয় দলের জার্সিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ডেভিড ওওরি শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না। তিনি ছিলেন সাহস, বিনয় ও আবেগ দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া একজন অধিনায়ক। উগান্ডা ক্রেনসের জার্সিতে তিনি পুরো জাতির স্বপ্ন বহন করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন সন্তান, একজন নেতা এবং একজন তারকাকে হারালাম। মাঠে ও মাঠের বাইরে তার অবদান কখনো ভোলা যাবে না।’ ওওরির মৃত্যুতে উগান্ডার পার্লামেন্টে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দেশটির বিরোধী দলের ক্রীড়া বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী জাম্বালি বুলাসিও মুকাসা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।