জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না: তারেক রহমান
ছবি: সংগ্রহীত

দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এখন সময় দেশ গড়ার এবং জাতির ভাগ্য গঠনের। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের শক্তিতে রূপান্তর করে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বন্যাদুর্গতদের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাটহাজারী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে। তবে একটি রাজনৈতিক দল সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা দিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “দেশের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সময় নাই। এখন সময় দেশ গড়ার, জাতির ভাগ্য গড়ার।” তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদের রুখে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের প্রতিও তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমানের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দল অতীতের মতো আবারও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি ওই দলের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে ওই দলটি চট্টগ্রামে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের ‘জাতীয় বেঈমান’ বলেছিল। পরে ঢাকায় গিয়ে তারা সামরিক শাসকের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়। ১৯৯৬ সালেও তারা দেশের মানুষের সঙ্গে গাদ্দারি করে স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল এবং গণভোটের বিরোধিতা করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের স্লোগান। বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে এবং দলের ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই এখন বিএনপির প্রধান দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩১ দফা জনগণের দফা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বিএনপি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের সঙ্গে যেসব দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও বাংলাদেশ সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পথে কোনো বাধা মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় চট্টগ্রামের মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে বেশি যুক্ত। এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে অনেক কলকারখানা রয়েছে। আরও বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একে একে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছে। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হচ্ছে। সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের আগে হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি ও জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান। পরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন পরিবার ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর নাছির উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বিভিন্ন উপজেলার সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে