চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৩২৮ জন। ফলে পরীক্ষায় ফেল করেছে ৮৭১ জন। এ উপজেলায় এবার সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে বোতলাগাড়ী হাই স্কুল থেকে। প্রতিষ্ঠানটির ৯৪ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। আর সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করেছে সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩৮৪ জন। প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৮ জন পাস করলেও ৮৭১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। মোট পরীক্ষার্থীর হিসাবে পাসের হার প্রায় ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করেছে বোতলাগাড়ী হাই স্কুলে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ জন পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ফেল করেছে কামারপুকুর হাই স্কুলে ৮২ জন। অপরদিকে,সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৮৪ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে, যা সৈয়দপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতে, একটি উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে পাস ও ফেল সংখ্যার এমন পার্থক্য শিক্ষার মান, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরদারির বিষয়গুলো নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা, শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে পিছিয়ে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তারা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, পুনরায় প্রস্তুতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।