ভুয়া বিল-ভাউচারে বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

এফএনএস (প্রিয় তুল্লা সুমন; তারাগঞ্জ, রংপুর) : | প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
ভুয়া বিল-ভাউচারে বিদ্যালয়ের স্লিপের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার মুচিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের স্লিপের অর্থ ব্যয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর আওতায় প্রাপ্ত নথি ও সরেজমিন অনুসন্ধানে বিল-ভাউচারের সঙ্গে বাস্তবতার গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম তাঁর স্বাক্ষরিত মোট ১৫ হাজার টাকার বিল-ভাউচার উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিল করেন। এসব বিল-ভাউচারগুলোতে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেও প্রত্যয়ন করা হয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটি বিল-ভাউচারে কাজী ভ্যারাইটিজ স্টোর থেকে ৫ হাজার টাকার শিক্ষা উপকরণ কেনার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এতে ২০টি আর্ট পেপার (প্রতি পিস ২০ টাকা), ৪০টি সাইন পেন (প্রতি পিস ১৫ টাকা) এবং ৮০টি জ্যামিতি বক্স (প্রতি পিস ৫০ টাকা) কেনা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। তবে সরেজমিনে কাজী ভ্যারাইটিজ স্টোরে গিয়ে অনুসন্ধান করলে অভিযোগ ওঠে, বিলে উল্লেখিত মালামাল ওই দোকান থেকে কেনা হয়নি। এমনকি বিলে উল্লেখ্য থাকা কয়েকটি পণ্য দোকানটিতে বিক্রিই করা হয় না। এ বিষয়ে কাজী ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী কাজী খোরশেদ আলম বলেন, “প্রধান শিক্ষিকা প্রতিবছর আমার দোকান থেকে কিছু ব্লাংক বিল-ভাউচার নিয়ে যান। এই বিলে উল্লেখিত মালামাল আমার দোকান থেকে কেনা হয়নি।”

একই অর্থবছরের ওই দোকানের আরও ১ হাজার ৫০০ টাকার আরেকটি বিল-ভাউচারেও একই ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। শুধু স্টেশনারি নয়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও মুদ্রণ ব্যয় দেখিয়েও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। একই অর্থবছরের আরও দুটি ভাউচারে দেখা যায়, ভাই ভাই অফসেট প্রেস থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, ফটোকপি ও খাতা প্রস্তুত বাবদ দুটি পৃথক ভাউচারে ৪ হাজার ২৫০ টাকা করে মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে ভাই ভাই অফসেট প্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ওই বিদ্যালয়ের জন্য এ ধরনের কোনো কাজ করা হয়নি। শুধু ব্ল্াংক ভাউচার নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

বিগত অর্থবছরগুলোতেও  তিনি বিভিন্ন ভাবে ভুয়া ও ছয়নয় বিল ভাউচার দিয়ে বিদ্যালয়ের স্লিপসহ বিভিন্ন খাতের বিল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগম বলেন, সবাই তো এভাবেই বিল করে। তাতে কি হইছে? তদন্ত করে দেখুক । আমার কি চাকরি যাইবে?  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাগমা শিলভীয়া খান বলেন,এমনটি হওয়ার তো কথা না।  তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যালয়ের স্লিপের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি,সরকারি অর্থ উত্তোলনের জন্য ভুয়া বিল-ভাউচার ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য  উদঘাটন করা জরুরি। একই সাথে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন । তাছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস কীভাবে এসব বিল-ভাউচার যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রত্যয়ন করে,সেই প্রশ্নও উঠেছে সচেতন মহলে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে