আবারো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
আবারো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

দেশে আবারো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। সেক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার অজুহাত দেখানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতি লিটারে ১০ টাকা দাম বাড়াতে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি, দাম না বাড়ালে লোকসান দিয়ে ভোজ্যতেল আমদানি করা সম্ভব হবে না। যদিও এ বিষয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে দাম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাজার এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে ভোজ্যতেল আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণ দেখিয়ে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয়ের অজুহাতে দাম বাড়াতে চাচ্ছে। কারণ বর্তমান দামে তারা লোকসান গুনছে। সেজন্যই প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮৮ টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একইভাবে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে খোলা পাম তেলের দামও বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৮৩ টাকা করার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেয়া হয়েছে। আর  প্রায় তিনমাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দেয়। 

সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভোজ্যতেলের দাম দাম কতো হতে পারে তা নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১৯১ মার্কিন ডলারে। যদিও মাসখানেক আগে তা এক হাজার ১৬৯ মার্কিন ডলার ছিলো। আর এক বছর আগে ওই দাম ছিল এক হাজার ৭৮ ডলার। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে পাম তেলের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম তেল এক হাজার ১৬২ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মাস আগে তা ছিলো এক হাজার ১৪৫ ডলার এবং এক বছর আগে এক হাজার ২৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের সঙ্গে তারতম্য রয়েছে। তাছাড়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে একগুচ্ছ করছাড় দেয়া হয়েছে। সেসব সমন্বয় করেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

এদিকে এ বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. শফিউল আতহার তসলিম জানান, ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে সব খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহন খরচও। ওসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুনতে হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়েছে। তারপর আরো একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। টানা লোকসান হলে এভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে