বেলফাস্টে তৃতীয় ওয়ানডেতে আয়ারল্যান্ডকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। স্বাগতিকদের ২০৬ রান ৩১ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে আফগানরা। জয়ের পথে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও রশিদ খান। গুরবাজের ৭১ রানের পর মাঝের ওভারে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত রশিদের অপরাজিত ৩৭ রানের ইনিংসে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। এই জয়টি আফগানদের জন্য বিশেষ, কারণ এই জয়েই নিশ্চিত হয়েছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তাদের সরাসরি খেলা। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। শুরু থেকেই তাদের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের বড় অংশজুড়ে রান এসেছে বিচ্ছিন্ন কিছু জুটি ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায়। শেষ পর্যন্ত ৪৬.৩ ওভারে ২০৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন গ্যাভিন হোয়ি। ৬৭ বলের ইনিংসে তিনি দুটি চার মারেন। জাই মুন্দ্রা ৩৩ বলে ৩১ রান করে তাকে ভালো সঙ্গ দেন। ক্যাড কারমাইকেল করেন ৩২ রান, আর অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ২৩ রান। বেন ক্যালিটজ করেন ২৯ বলে ২০ রান। তবে আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। ওপেনার অ্যান্ডি বালবির্নি ৭ রান করে ফিরে যাওয়ার পর স্টার্লিং ও কারমাইকেল কিছুটা সামাল দেন। কিন্তু ৬৩ রানে স্টার্লিং ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। ৮২ রানে কারমাইকেল এবং ৮৫ রানে লরকান টাকার ফিরে যান। এরপর কার্টিস ক্যাম্ফারও দ্রুত বিদায় নেন। আফগানিস্তানের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন এএম গাজানফার। ৯ ওভারে ২৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। রশিদ খানও তিন উইকেট শিকার করেন। ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে তিনি আউট করেন কারমাইকেল, হ্যারি টেক্টর ও মার্ক অ্যাডেয়ারকে। ইয়ামিন আহমাদজাই নেন দুটি উইকেট। ফজলহক ফারুকি ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই একটি করে উইকেট পান। আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের শেষ দিকে হোয়ি ও মুদ্রা নবম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ ৭৬ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিই স্বাগতিকদের স্কোরকে দুইশ ছাড়াতে সাহায্য করে। ৪৫.৫ ওভারে মুদ্রা ৩১ রান করে আউট হলে জুটি ভাঙে। এরপর ৪৬.৩ ওভারে হোয়িকে ফেরান ওমরজাই, আর সেখানেই শেষ হয় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস। ২০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুটা ভালোই করে। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের উদ্বোধনী জুটি থেকে আসে ৫৩ রান। ২৩ বলে ১২ রান করে জাদরান ফিরলেও গুরবাজ নিজের ছন্দ ধরে রাখেন। এরপর সেদিকউল্লাহ আতালকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে আরও ৩১ রান যোগ করেন তিনি। ২৫ বলে ২৭ রান করে আতাল ফিরে যাওয়ার পর গুরবাজের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রহমত শাহ। তবে রহমত মাত্র ৪ রান করেই বিদায় নেন। ৯৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর আফগানিস্তান কিছুটা চাপে পড়ে। গুরবাজ অবশ্য নিজের কাজটা করে যান। ৭৭ বলে ৭১ রানের ইনিংসে তিনি দুটি চার ও পাঁচটি ছক্কা মারেন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৯২.২০। ২৮.১ ওভারে ১৪৯ রানের মাথায় গুরবাজ আউট হলে আফগানিস্তানের জয়ের জন্য তখনও ৫৮ রান প্রয়োজন ছিল। এরপর হাশমতউল্লাহ শহিদি ২৪ বলে ২২ রান করে কিছুটা গতি ধরে রাখেন। কিন্তু ১৩২ রানে শহিদি ফেরার পর আবারও চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দারউইশ রাসুলি ১৪ বলে ১৩ রান করে ফিরে যান ১৫৪ রানে। আজমতউল্লাহ ওমরজাইও ২৯ বলে ১৩ রান করে ১৭৬ রানে আউট হলে আফগানিস্তানের জয়ের পথ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। সেখানেই দায়িত্ব নেন রশিদ খান। শুরুতে সতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী রান তোলেন রশিদ। ৪৩ বল মোকাবিলা করে চারটি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৩৭ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ইয়ামিন আহমাদজাই ছিলেন পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ভূমিকায়। ২৬ বল খেলে মাত্র ৪ রান করলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট ধরে রাখেন তিনি। এই জুটিই আফগানিস্তানকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আয়ারল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে গ্যাভিন হোয়ি ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। মার্ক অ্যাডেয়ারও ১০ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট শিকার করেন। বাইরন ম্যাকডোনাফ একটি উইকেট নেন। তবে তাদের বোলিং প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিতে পারেনি। আফগানিস্তান ৪৪.৫ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করে। ফলে ৩১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় পায় তারা। এই জয়ে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পেল আফগানিস্তান।