ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ১২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মজর আলী আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সবাই এবার এস.এস.সি. ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের বরুকা গ্রামের শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখা থেকে চলতি বছর ৮ জন শিক্ষার্থী এস.এস.সি. পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং বাকতা শ্রীপুর গ্রামের মজর আলী আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন দাখিল পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, কিন্তু কেউই কৃতকার্য হতে পারেনি।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হলেও, ৪টি প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, যার মধ্যে ফুলবাড়িয়ার এই দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এই তথ্য সামনে আসায় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, ভালুকজান মডেল বালিকা একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের তালিকায় নাম উঠিয়েছে।
জানা গেছে, শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে ৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। নন-এমপিওভুক্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে কাগজপত্রে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩২ জন। গত বছর ১২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। চলতি বছর ৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ৭১টি বিদ্যালয় থেকে ৪ হাজার ২৭৭ জন শিক্ষার্থী এস.এস.সি. পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২ হাজার ৮ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৪৬.৯৪ শতাংশ। ৫২টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। পাসের হার ৩৮.২১ শতাংশ। এস.এস.সি. (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৫৬.৫৬ শতাংশ। মজর আলী আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল খালেক আকন্দ বলেন,শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতো না, এবং অভিভাবক সমাবেশ করেও অভিভাবকদের সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তির কারণে ফলাফলের এই বিপর্যয় ঘটেছে। ফুলবাড়িয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞার ভাষ্য, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তেমন কার্যক্রম নেই এবং কাগজপত্রে শিক্ষার্থী দেখিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। উপজেলার ১২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ১৬৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।