উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে

মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী দেখার দাবি বগুড়াবাসীর

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী দেখার দাবি বগুড়াবাসীর

উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র এবং শিল্প-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক জেলা বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান জেলার সর্বস্তরের জনগণ। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, বগুড়ার দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নাগরিক সমস্যা নিরসন ও বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

বগুড়া বরাবরই দেশের উত্তর অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলাটির বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও প্রত্যক্ষ সমন্বয়ের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে বা আটকে রয়েছে। এই অবস্থায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।

বগুড়ার সাধারণ মানুষজন জানান, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মীর শাহে আলম বগুড়া বিভিন্ন উন্নয়নের রোড ম্যাপ তৈরি করে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট পুনর্র্নিমাণ, কৃষি রক্ষার্থে খাল খনন প্রকল্প নিশ্চিতকরণ এবং পল্লী এলাকার জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে সক্রিয় করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাঁর কঠোর মনোভাব ইতোমধ্যে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বগুড়াবাসীর জানান, প্রতিমন্ত্রী পদের কিছু নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা থাকে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত মন্ত্রণালয়গুলোর একটি। মীর শাহে আলমকে এই মন্ত্রণালয়ের বা অন্য কোনো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি স্বাধীন ও বিস্তৃত পরিসরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন, যা পুরো উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে ভূমিকা রাখবে।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজন প্রতিনিধি এবং স্থানীয় পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ জানান, বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর চালু এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মতো বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জোরালো দাবি দীর্ঘদিনের। এসব বড় প্রকল্প অনুমোদনে মন্ত্রিসভার নীতিগত সিদ্ধান্ত ও জোরালো ভূমিকার প্রয়োজন হয়। মীর শাহে আলমের মতো পরিচ্ছন্ন ও কর্মঠ নেতাকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হলে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরঞ্চলের উন্নয়ন নতুন মাত্রা পাবে। মীর শাহে আলম সর্বদা সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি যেভাবে বগুড়ার দীর্ঘদিনের স্থবির হয়ে থাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি ফিরিয়ে এনেছেন, তাতে জেলাবাসী তাঁর প্রতি নতুন করে আস্থা প্রকাশ করছেন। বগুড়াবাসীর এই গণদাবি কেবল কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি পুরো জেলার ভবিষ্যৎ অগ্রগতি ও সার্বিক উন্নয়নের এক যৌথ আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। বগুড়ার এই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন যাত্রাকে মসৃণ করা এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে মীর শাহে আলমকে অবিলম্বে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে উন্নীত করবেন এমনটাই উদগ্রীব প্রত্যাশা সমগ্র বগুড়াবাসীর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে