শাড়ি নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধ ও প্রচারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলাটি করা হয় অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র একটি শাড়ি নিয়ে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা করবেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ। পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
মামলা দায়েরের পর আদালত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে। সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন। ওই নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।
শুনানিতে তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, তিশা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেই আদালতে হাজির হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাপোনিয়ার পক্ষ থেকেই শাড়িটি তাকে দেওয়া হয়েছিল এবং পেজ মেনশন করে প্রচারের কথা বলা হয়েছিল। তিশা এ বিষয়ে ভিডিও প্রকাশও করেছিলেন বলে দাবি করেন আইনজীবী।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে সেই শাড়িটিও উপস্থাপন করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কিছুটা বিতর্ক হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুকুল দাবি করেন, শাড়িটি পরে ভিডিও প্রকাশ করা হয়ে থাকলে সেটি অক্ষত অবস্থায় থাকার বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, মামলাটি করার আগে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ডিবি তদন্তের সময়ও তাকে একাধিকবার ডাকা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগটি জামিন অযোগ্য ধারায় করা হয়েছে উল্লেখ করে তানজিন তিশাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদনও করেন তিনি।
তবে শুনানি শেষে আদালত তানজিন তিশাকে জামিন দেন। আদেশে তার নারী হওয়ার বিষয়টি এবং শাড়ির দাম ও মডেলের বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিন তিশা দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। সে কারণে শাড়িটির মূল্য পরিশোধের প্রশ্ন নেই বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
মামলার বর্তমান পর্যায়ে আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন তানজিন তিশা।