এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি? মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্রে এ্যানি? মন্ত্রিসভায় রদবদলের জোর গুঞ্জন
ছবি: সংগ্রহীত

মন্ত্রিসভায় আবারও বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। আলোচনায় রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আর তাঁর জায়গায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা ছিল। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হওয়া। তাঁকে দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ঘোষণা করার পর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টি সামনে আসে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েও পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে শূন্য হতে যাওয়া এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সেটিই এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অন্যতম আলোচনার বিষয়।

সংশ্লিষ্ট আলোচনায় বলা হচ্ছে, এলজিআরডির দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদকে দেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নতুন নেতৃত্ব পাবে। সে ক্ষেত্রে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

তবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি নিজে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। তিনি বলেছেন, “আমি যেখানে আছি এখানেই ভালো আছি। এখানে বেশ কয়েকটি বড় কাজ রয়েছে। এগুলো দেশের উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বণ্টনে কোনো পরিবর্তন আনবেন কি না সেটি আমার জানা নেই।”

দুই মন্ত্রণালয়েই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

অন্যদিকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নগর ও গ্রামীণ অবকাঠামো, স্থানীয় উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সরাসরি যুক্ত।

এ কারণে এই দুই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বের পরিবর্তন হলে তা শুধু প্রশাসনিক দপ্তর পুনর্বণ্টন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারেরও কিছুটা প্রতিফলন ঘটতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

সালাহউদ্দিনের নাম এলজিআরডিতে

সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা গেছে।

জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়েও তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁকে এলজিআরডিতে আনা হলে স্থানীয় সরকার ও তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

তবে মন্ত্রিসভায় তাঁর দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ্যানির নাম

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এ্যানি সংসদে বিভিন্ন আইন ও নীতিগত বিষয়ে সক্রিয়। সম্প্রতি তিনি ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন।

তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে সেটি হবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পরিবর্তন। আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ প্রশাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয় সামলানোর দায়িত্ব তাঁর ওপর পড়বে।

দলীয় সমীকরণও আলোচনায়

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদরের পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পর দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সালাহউদ্দিন আহমদের নামও সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

রিজভী আহমেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেলে তাঁর বর্তমান পদে কাকে আনা হবে, তা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলালের নামও আলোচনায় এসেছে।

তবে দলীয় পদে এসব পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদরের সঙ্গেও এসব সাংগঠনিক আলোচনাকে সরাসরি যুক্ত করার মতো কোনো সরকারি বা দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো নেই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।

এরপরই মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। একই দিনে শিক্ষামন্ত্রীকেও ডেকে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তাঁকে দপ্তর পরিবর্তনের কোনো সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের কারণে ডাকা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা যতই জোরালো হোক, এখনো সালাহউদ্দিন আহমদকে এলজিআরডি এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কী সিদ্ধান্ত নেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কী প্রজ্ঞাপন জারি হয়, সেটিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে