চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে দিন দিন বড় হচ্ছে খালি কনটেইনারের স্তূপ

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:২২ এএম
চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে দিন দিন বড় হচ্ছে খালি কনটেইনারের স্তূপ

চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে দিন দিন বড় হচ্ছে খালি কনটেইনারের স্তূপ। তাতে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং, ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। মূলত বন্দরে খালাস হওয়া আমদানীকৃত পণ্যের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ ফুল কনটেইনার লোড (এফসিএল) বন্দরের ইয়ার্ডেই আনস্টাফিং করা হয়। তাতে প্রতিদিন খালি কনটেইনার তৈরি হচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার। ফলে প্রতিদিনই চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে খালি কনটেইনারের চাপ বাড়ছে। আর ওই সংকট কমিয়ে বন্দর পরিচালনা আরো গতিশীল করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) কাস্টমস বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই সুবিধাজনক স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের অনুমতি চাচ্ছে । কিন্তু ওই বিষয়ে  কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান— না আসায় বন্দরের কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে।  চবক এবং বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে কাস্টমস বিধিমালা অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা অফডকের বাইরে অন্য কোথাও খালি কনটেইনার সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের সুযোগ নেই। তাতে  প্রতিদিন যে পরিমাণ খালি কনটেইনার বন্দর থেকে অফডক বা রপ্তানির জন্য সরানো সম্ভব হয়, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক নতুন খালি কনটেইনার ইয়ার্ডে জমা হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি প্রতিবেশী দেশেই শিপিং এজেন্ট ও এমএলওদের (প্রধান লাইন পরিচালনকারী) বন্ড সুবিধাবিহীন স্থানে খালি কনটেইনার সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে নেই। অথচ ওই সুযোগ থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর (আইসিডি) ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে আসবে। পাশাপাশি বাড়বে বন্দরের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমাসহ লজিস্টিক গতিশীলতা। ওই লক্ষ্যে এনবিআরকে দেয়া একাধিক চিঠিতে বন্ড লাইসেন্স ব্যতিরেকে শিপিং এজেন্টদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিরাপদ কোনো উপযুক্ত স্থানে খালি কনটেইনার রাখার অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে চবক।

সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট শুধু বন্দরের অভ্যন্তরীণ সমস্যাই নয়, বরং দেশের সাপ্লাই চেইনকেই ফেলছে হুমকির মুখে। কারণ সময়মতো খালি কনটেইনার না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং। আর তাতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ফলে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের ডেমারেজ খরচ বাড়ছে। সর্বশেষ ওসব অতিরিক্ত ব্যয়ের চূড়ান্ত দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়ছে। অথচ এ ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে কাস্টমস। ফলে প্রতিনিয়ত বন্দরের লজিস্টিক ব্যয় বাড়ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বন্দর ও ডিপোর বাইরে খালি কনটেইনারের জটে পরিবহনজট তৈরি হচ্ছে। তাতে কঠিন হয়ে পড়ছে সময়মতো পণ্য জাহাজে পাঠানো। পরিস্থিতি উত্তরণে সাময়িক সমাধান হিসেবে কাস্টমসের তদারকি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বন্ড ছাড়া নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে খালি কনটেইনার রাখার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। তাছাড়া এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যেতে পারে নতুন গড়ে ওঠা বেসরকারি আইসিডিগুলোও।

এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া খালি কনটেইনার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে কমে আসবে শিপিং এজেন্টদের পরিচালনা ব্যয়। পাশাপাশি বন্দরের ওপর চাপ হ্রাস পাবে এবং খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে