রামিসা হত্যা: দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের কার্যতালিকায়

নিজস্ব প্রতিবেদন
| আপডেট: ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম | প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
রামিসা হত্যা: দুই আসামির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের কার্যতালিকায়
ছবি: সংগ্রহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। হত্যার পর বাসার একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় আসামি সোহেল রানা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর ২১ মে সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২৫ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া ও জেরা শেষ হয়। এক দিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। পরে ৪ জুন যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয়।

এরপর ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়।

এ ছাড়া সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে তা বিক্রি করে রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। এরপর দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ৯ জুন তাদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছে।

পরে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুন হাইকোর্টে জেল আপিল করেন। ১৪ জুন হাইকোর্ট তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। দুই আসামির পক্ষে শুনানি করতে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী বা স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেলও নিয়োগ করা হয়।

এখন ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে। আগামী রোববার শুনানির জন্য ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে মামলাটি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে