সামিট-এক্সিলারেট চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
সামিট-এক্সিলারেট চালু, বেড়েছে গ্যাসের সরবরাহ

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দুটিই একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় দেশে টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। 

আজ শনিবার ভোর থেকে সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার ভোর ৪টা থেকে সামিটের টার্মিনাল দৈনিক প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুই টার্মিনাল থেকেই বর্তমানে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সামিট পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ করলেও এক্সিলারেট এখনো আংশিক সক্ষমতায় রয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় গ্রাহকদের সাময়িক স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিংও বেড়ে যায়। পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা দেয়।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির মাধ্যমে দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। আগুনে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপরটি থেকে ৬ আগস্ট আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ সাময়িক বন্ধ থাকলেও ত্রুটি মেরামতের পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ চালু হয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি এখনো সচল হয়নি। এটি চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনালের সরবরাহ প্রায় ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। কখন এই পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এখনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ হয়নি। ফলে এক্সিলারেটের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এদিকে এলএনজি সংকটের কারণে গত কয়েক দিন সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সোমবার সরবরাহ কমানো হয় এবং মঙ্গলবার তা নেমে আসে ২০ কোটি ঘনফুটে। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দৈনিক মাত্র ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার বঙ্গোপসাগরে ভিটলের একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়। এর আগে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু করে সামিট। শুরুতে সরবরাহ ছিল সাড়ে ৯ কোটি ঘনফুটের মতো, যা ভোররাতে বেড়ে ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। প্রয়োজনে আরও ৭ থেকে ৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজি জাহাজ বঙ্গোপসাগর থেকে ফেরত পাঠানো হয়। টার্মিনালের সঙ্গে জাহাজটির এলএনজি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য না থাকায় সেটি থেকে গ্যাস নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও ওই জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি ফেরত পাঠিয়ে তার পরিবর্তে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। প্রায় ৩০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গেলে অধিকাংশ খাতে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। স্বাভাবিক সময়ে রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

শুক্রবার বিকেলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৭৩ কোটি ঘনফুটে। শনিবার তা বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুট হয়েছে। তারপরও স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে এই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে