স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের আহ্বান

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের আহ্বান

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব স্তরে নারীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক আয়োজিত এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় “গণতন্ত্রকে শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব-প্রত্যাশা ও করণীয়”শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক সুনামগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি আয়শা সিদ্দিকার সভাপতিত্বে এবং দিরাই পিএফজির সমন্বয়কারী সামছুল ইসলাম সরদার খেজুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ফোরাম অন ফর্ব অ্যান্ড হারমনি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সমন্বয়ক মাওলানা নূর হোসাইন, দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছবি চৌধুরী, শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দোলন রানী তালুকদার, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মারজানা ইসলাম শিবনা, বিশ্বম্ভরপুর পিএফজির সমন্বয়কারী ফুলমালা এবং জামালগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কুদরত পাশা। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, স্থানীয় সরকারে নারীর সংরক্ষিত আসন কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি সংবিধানের সমতার অঙ্গীকার, সিডও (ঈঊউঅড)-এর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ২৭ ও ২৮(৪) অনুচ্ছেদ নারীসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন নারীদের জন্য তিনটি সংরক্ষিত আসন বাধ্যতামূলক করে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

আলোচনায় ড্রুডে ডাহলেরুপের ঈৎরঃরপধষ গধংং ঞযবড়ৎু-এর উল্লেখ করে বলা হয়, নারীর প্রতিনিধিত্ব ৩০ শতাংশের নিচে থাকলে তাদের কার্যকর কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই স্থানীয় সরকারে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে অন্তত ৩০ শতাংশ চেয়ারম্যান পদে, উপজেলা ও জেলা পরিষদে অন্তত ২০ শতাংশ চেয়ারম্যান পদে নারী প্রার্থী মনোনয়ন, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে নারী মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন এবং সাধারণ সদস্য ও কাউন্সিলর পদে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে নারী প্রার্থীদের সমান নির্বাচনী অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাজেদা খাতুন, ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলেয়া বেগম, গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য প্রতিমা রানী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়াসমিন, নারীনেত্রী রোসনা আক্তার তৃষ্ণা, রীনা আক্তার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মুছিহুর রহমান রাসেল, ইয়ুথ সমন্বয়ক ইয়াহইয়া হাসান, আলী ইমরান, নাজিয়া সরদার, সামছুল কবির, দূরপতি, অনন্যা ও শবনম দোজা জ্যোতিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। 

বক্তারা বলেন, যে সমাজে নারী সচেতন থাকবে, সে সমাজে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। দেশের গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করতে নারী জাগরণ অপরিহার্য। তারা আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর দ্রুত স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনে নারীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে