সরকার গঠনের পর দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং নানা কারণে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত বিএনপি নেতাদের মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের চার গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়া চার নেতা হলেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর থেকেই দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এমএ মালিক। নির্বাচনে মনোনয়ন না পেলেও সিলেটের ছয়টি আসনে বিএনপির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন কাইয়ুম চৌধুরী। নির্বাচনের পর তাকে সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর ১৫ মার্চ সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। গত ১১ জুন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান মহানগর বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কয়েস লোদী সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলেন।
সবশেষ গত ৯ আগস্ট বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মিফতাহ্ সিদ্দিকী সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে ওই আসনে দলীয় মনোনয়ন পান আরিফুল হক চৌধুরী।