কলাপাড়ায় ট্রলি, জেনারটর,ওয়েট মেশিন আটক করল পুলিশ

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
কলাপাড়ায় ট্রলি, জেনারটর,ওয়েট মেশিন আটক করল পুলিশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের নির্মাণাধীন ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে আবাসন প্রকল্প এলাকা থেকে ব্যবহারযোগ্য ট্রলি, জেনারটর ও ওয়েট মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল বোঝাই সাতটি ট্রাক কলাপাড়া থানা পুলিশ আটক করেছে। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে এই ট্রকগুলো আটক করা হয়। মালামাল পরিবহনের ট্রাক চালকদের কাছে এসংক্রান্ত চালানসহ কোন কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ মাল বোঝাই ট্রাকগুলো আটকে দেয়। এসব মালামাল নাটোর নেয়া হচ্ছিল বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এনিয়ে ওই এলাকা হাসনাপাড়াসহ গোটা লালুয়ায় এক ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। এর আগেও এভাবে রাতের আধারে এই আবাসন প্রকল্প থেকে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির চালান চলে গেছে বলে স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন । ট্রাকগুলোয় ট্রলি, জেনারেটর মেশিনে কেটে খন্ড খন্ড করে ইঞ্জিন ঠিক রেখে নেয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১২ আগস্ট থেকে গ্যাস কাটার মেশিনে অন্তত ১২টি ট্রলি কাটা হচ্ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার ট্রাকে লোড করা হয়। শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে পায়রা বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের একটিদল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সদস্যসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকগুলো আটক করা হয়। পরে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

মালবোঝাই এক ট্রাকের চালক জানান, স্থানীয় সাব্বির, সুমন এই মাল নাটোর পৌছে দেয়ার জন্য আবাসনে আসতে বলেন। তাঁরা ট্রাক নিয়ে বৃহস্পতিবার এখানে আসেন। তখন থেকে মালামাল লোড করতে থাকেন। শুক্রবার রাতে লোড করা শেষ হয়। যাবার পথে পুলিশ এসে আমাদেরকে আটকে দেয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। বিষয়টি মালিক পক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে জানা গেছে, এসব মালামাল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে তারা এখানকার কাজকর্ম বন্ধ করে চলে যায়। তবে মধ্যস্থাকারী সাব্বির ও সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ই ইঞ্জিনিয়ারিং এর লজিস্টিক কর্মকর্তা মো: রুপম বলেন, এই মালামাল আমাদের কোম্পানির। পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আজ অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করেছেন। অনুমতি পত্র পেলেই মালামাল নিয়ে যাওয়া হবে। তবে কেন অনুমতি পাওয়ার আগে কয়েক কোটি টাকার মালামাল নিয়ে যাচ্ছিলেন তার কোন উত্তর মেলেনি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এক্ষেত্রে একটু মিসটেক হয়েছে। ই-ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির পায়রা বন্দর কো-অর্ডিনেটর মো. ঘাসিব জানান, দীর্ঘদিন ট্রলিগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কোম্পানি বিক্রি করেছে। কিন্তু পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি। এনিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এখন কাগজপত্র ঠিক করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই ঝামেলা মিটে যাবে।

পায়রা বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার মো. ইরফানুল আল রিফাত গণমাধ্যমকে জানান, পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাল বোঝাই ৭টি ট্রাক গতরাতে আটক করা হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় বিধি মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, রাতের বেলা কেন সাত ট্রাক মালামাল নেওয়া হচ্ছিল এমন সন্দেহে আটক করা হয়। এছাড়া ডকইয়ার্ডের কাগজপত্র তাঁদের কাছে ছিল না। যদি কাগজ সম্পাদন করে দেখাতে পারে তাহলে পরবর্তি সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। 

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁকে অবহিত করলে পুলিশ গিয়ে মালামালসহ ট্রাকগুলো জব্দ করা হয়। বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয়ও অবগত রয়েছেন। কোম্পানির লোকজন যদি তাদের যথাযথ পেপার্স দেখিয়ে পায়রা বন্দর থেকে তাদের পণ্য নেওয়ার অনুমতি পায় সে অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন পায়রা বন্দরের অনুমতি ছাড়া কেন এসব মালামাল নেওয়া হচ্ছিল। এনিয়ে নানা কথাবার্তা এখন আলোচিত হচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে