ঢাকার বাণিজ্যিক ভবনগুলোর পার্কিং স্পেসের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হচ্ছে রাজউক

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ঢাকার বাণিজ্যিক ভবনগুলোর পার্কিং স্পেসের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে কঠোর হচ্ছে রাজউক

রাজধানীর বাণিজ্যিক ভবনগুলোর পার্কিং স্পেসের বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। ওই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে রাজউকের পরিদর্শন দলগুলো ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, প্রগতি সরণি, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পান্থপথ, কাওরান বাজার, পল্টন ও মতিঝিল এলাকার ২ হাজার ৬৩৭টি বাণিজ্যিক ভবন পরিদর্শন করেছে। তার মধ্যে ১ হাজার ৬৮টি ভবনের পার্কিং স্থানে স্থায়ী অবকাঠামো রয়েছে। আর ২১৬টি ভবনে অস্থায়ী অবকাঠামো রয়েছে। তাছাড়া ৪৫৮টি ভবনের পার্কিং নেই। তবে ৫৩২টি ভবনের যথাযথভাবে পার্কিং হচ্ছে এবং ৩৬৩টি ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং সুবিধা রয়েছে। বাণিজ্যিক ভবনগুলোর পার্কিং স্পেস যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় রাজপথে যানজট বাড়ছে। বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং স্পেসের অনিয়মের বিরুদ্ধে শিগগিরই ঢাকায় একযোগে রাজউক বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। রাজউক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর অনেক বাণিজ্যিক ভবনেই  নকশাবহির্ভূতভাবে পার্কিংয়ের জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে দোকান, গুদাম বা অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে রাজধানীর ৮৬ দশমিক ২৩ শতাংশ বাণিজ্যিক ভবনে অনুমোদিত পার্কিং সুবিধা নেই।  ভবনের নকশা অনুযায়ী মাত্র ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভবনে পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে। আর প্রায় ৮০ ভাগের বেশি বাণিজ্যিক ভবনের মালিক নিয়মনীতি অমান্য করে গাড়ে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত বেজমেন্ট বা গ্রাউন্ড ফ্লোর ব্যবহার করছে অন্য কাজে। ফলে ওসব ভবন থেকে সেবা নিতে আসা মানুষের গাড়িগুলো বাধ্য হয়ে মূল সড়কের ওপর পার্কিং করতে হয়। যা ঢাকার যানজটকে আরো ভয়বহ করে তুলছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরীর পার্কিং সমস্যা কমিয়ে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্যই রাজউক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। আর ওই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে রাজউকের বিভিন্ন জোনে থাকা বাণিজ্যিক ভবনগুলোর ওপর বিশেষ জরিপ ও পরিদর্শন চালানো হয়। 

সূত্র জানায়, রাজউকের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যিক ভবনের মালিকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই ভবনের নকশা অনুমোদন করিয়ে নেয়ার পর পার্কিংয়ের জায়গায় বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরি করেছে। যা স্পষ্টত ইমারত নির্মাণ বিধিমালার লঙ্ঘন। ইতিমধ্যে রাজউক ইমরাত নির্মাণ বিধিমালা অমান্যকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। খুব শিগগিরই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভবনের পার্কি স্পেসে শুরু করা হবে উচ্ছেদ অভিযান। ইতিমধ্যে রাজউক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভবনের পার্কিংয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে ভবন মালিক ও ব্যবহারকারীদের সময় বেঁধে দিয়েছে। ওই নির্ধারিত সময়ের পর ১৬টি বহুতল ভবনের ১৩১টি পার্কিং স্পেস থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। রাজধানীর বাণিজ্যিক ভবনগুলোর পার্কিংয়ের সব অনিয়ম অপসারণ করে নকশা অনুযায়ী পার্কিং নিশ্চিত করতে রাজউকের আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিং নিশ্চিতের প্রথম ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজধানীর আবাসিক ভবনগুলোতেও একইভাবে চিরুনি অভিযান চালানো হবে।

এদিকে পার্কিং স্পেস নিয়ে রাজউকের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা নিয়মতান্ত্রিক টেকসই সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান জানান, রাজউকের ঢিলেঢালা নজরদারির কারণেই বছরের পর বছর ধরে ভবন মালিকরা পার্কিং স্পেস বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার সাহস পেয়েছে। এখন শুধু উচ্ছেদ করলেই হবে না, উচ্ছেদের পর ওই জায়গাগুলো যেন পুনরায় অন্য কোনো অবৈধ দখলে না যায় তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারী ভবন মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর শাস্তি দেয়া যেতে পারে।

অন্যদিকে রাজধানীর যানজট নিরসনে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সভা হয়েছে। ওই সভায় জানানো হয়, অনেক বেসরকারি ভবনের অনুমোদিত পার্কিং স্পেস নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে কারণে নগরবাসী রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য হচ্ছে। যা যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। 

এ প্রসঙ্গে রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, যানজট নিরসনে গুরুত্ব দিয়ে যেসব ভবনের পার্কিংয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে সেগুলোতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু এমন ভবনের সংখ্যা অনেক। সেজন্য পর্যায়ক্রমে অভিযান চলবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে