সৈয়দপুরে আবাসিক এলাকায় ক্ষতিকর গুল কারখানা, ভোগান্তিতে মানুষ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
সৈয়দপুরে আবাসিক এলাকায় ক্ষতিকর গুল কারখানা, ভোগান্তিতে মানুষ

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা গুল কারখানাগুলো নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এসব কারখানা জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে নামে-বেনামে এসব কারখানায় তামাকজাত গুল উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,শহরের মিস্ত্রিপাড়া,বাঁশবাড়ি,সাহেবপাড়া,নতুন বাবুপাড়াসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় একাধিক গুল কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানায় তামাকের পাতা ও ডাঁটা গুঁড়া করে গুল তৈরি করা হয়। উৎপাদনের সময় ছড়িয়ে পড়া তামাকের ঝাঁঝালো গন্ধ ও গুঁড়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ফলে কারখানার আশপাশের বাসাবাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি কারখানার আশপাশে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে তামাকের পাতা ও ডাঁটার গুঁড়া পড়ে রয়েছে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে বাতাসেও ছড়িয়ে পড়ছে তামাকের গন্ধ ও সূক্ষ্ম গুঁড়া। এতে শিশু, বয়স্ক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব কারখানায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু শ্রমিক কাজ করছে। অল্প বয়সী এসব শ্রমিক তামাকের পাতা ও গুঁড়ার সংস্পর্শে থেকে দীর্ঘ সময় কাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকায় তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সরকারি বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকা থেকে এসব কারখানা সরিয়ে নির্ধারিত শিল্পাঞ্চল বা জনবসতিহীন এলাকায় স্থানান্তরের দাবি জানান তারা। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা চলতে থাকলে শুধু পরিবেশ নয়, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। শিশু শ্রম বন্ধ এবং তামাকজাত গুলের উৎপাদন ও কারখানাগুলোর বৈধতা যাচাইয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সৈয়দপুরের সচেতন মানুষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে