সৈয়দপুর কৃষি ব্যাংক একজনের প্রস্তাবিত ঋণ তুলে নিলেন অন্যজন

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
সৈয়দপুর কৃষি ব্যাংক একজনের প্রস্তাবিত ঋণ তুলে নিলেন অন্যজন

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখায় অভিনব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঋণের জন্য জমির কাগজপত্র ও স্বাক্ষর করা চেক ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন মোঃ খালিদ ইকবাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর নামে প্রস্তাবিত দুই লাখ টাকার ঋণ তিনি নিজে না পেলেও সেই ঋণের দায় এসে পড়েছে তাঁর ব্যাংক হিসাবে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর প্রস্তাবিত ঋণের টাকা অন্য একজন তুলে নিয়েছেন।

এ ঘটনায় ব্যাংকের অস্থায়ী কর্মচারী সাদ্দাম হোসেন, পিয়ন রেজাউল করিম ও কাজীরহাট এলাকার কথিত দালাল বিলাশ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী খালিদ ইকবাল। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। কারণ তারা সরাসরি ওই চক্রের সাথে জড়িত ছিল।

ভুক্তভোগী মোঃ খালিদ ইকবাল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। সম্প্রতি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত ভারতে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সৈয়দপুর শাখায় জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ঋণের আবেদন করেন।

খালিদ ইকবালের ভাষ্য, কয়েকদিন পর ব্যাংক থেকে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। ব্যাংকে গেলে তাঁর কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে বলা হয়, তাঁর কাজ শেষ হয়েছে; ঋণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাঁকে আবার ডাকা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ব্যাংক থেকে তাঁকে আর ডাকা হয়নি। গত ৩০ আগস্ট ব্যাংকে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে প্রস্তাবিত দুই লাখ টাকার ঋণ অন্য একজন নিয়ে গেছেন। অথচ ওই ঋণের দুই লাখ টাকা তাঁর ব্যাংক হিসাবেই দায় হিসেবে যুক্ত হয়েছে। খালিদ ইকবাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমি জমির দলিল দিলাম, চেক দিলাম, স্বাক্ষর দিলাম অথচ টাকা পেলাম না। কিন্তু দুই লাখ টাকার ঋণের বোঝা আমার মাথায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকের অস্থায়ী কর্মচারী সাদ্দাম হোসেন, পিয়ন রেজাউল করিম এবং কাজীরহাট এলাকার বিলাশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। কারণ ওই তিনজনেই তার কাছ থেকে জমির দলিল, চেক ও স্বাক্ষর নিয়েছিলেন।

তাদের যোগসাজশের মাধ্যমে ঋণের টাকা হয়তো ভাগাভাগি করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি। এদিকে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টিকে প্রাথমিকভাবে ভুল বা অনিয়মজনিত ঘটনা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন বলেও জানান।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ব্যাংকে গেলে  ব্যবস্থাপককে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে কল করা হলে তিনি রিসিপ করেননি। সচেতন মহলের প্রশ্ন, একজন গ্রাহকের নামে প্রস্তাবিত ঋণের টাকা অন্য ব্যক্তি কীভাবে উত্তোলন করলেন এবং গ্রাহকের অজান্তে সেই ঋণের দায় তাঁর হিসাবেই বা কীভাবে যুক্ত হলো? ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের সময় ব্যাংকের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ভুক্তভোগীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে