গ্রামীণ জনপদের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
গ্রামীণ জনপদের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ

গ্রামীণ জনপদের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশের গ্রামীণ সড়কগুলো টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতাসহ অন্যান্য কারণে বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কের কোথাও উঠে গেছে পিচ, আবার কোথাও বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে সড়ক চলাচলে সাধারণ মানুষ নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে ব্যয় হচ্ছে বাড়তি সময় ও অর্থ। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো ভাঙাচোরা সড়কের কারণে কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকার গ্রামীণ সড়কগুলো বছরজুড়ে চলাচলের উপযোগী রাখতে দুই হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকার পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। আর তা বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় মোট ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। সরকারি অর্থায়নে জুলাই ২০২৬ থেকে সাড়ে ৩ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে বড় পরিসরে দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে এবং পরবর্তী সময়ে ২০০৩ থেকে ২০০৭ মেয়াদে এলজিইডির অধীনে গ্রামীণ সড়কগুলো ব্যাপক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। তারপর বড় পরিসরে ওই ধরনের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি নেয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে এলজিইডির অধীনে প্রায় চার লাখ ১১ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। তার মাত্র ৪০ শতাংশ পাকা। বিশাল ওই সড়কব্যবস্থায় নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

সূত্র জানায়, গ্রামীণ সড়কগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী রাখা এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি গৃহীত প্রকল্পটির লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায়  ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুস্থ নারীকে সরাসরি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত করা হবে। প্রতি ইউনিয়নে ১০ জন করে নারী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে। তাদের দৈনিক মজুরি হবে ৩০০ টাকা। কাজের বিনিময়ে তারা নিয়মিত মজুরি পাবেন এবং এর একটি অংশ সঞ্চয় হিসেবে জমা থাকবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সঞ্চিত অর্থ এককালীন দেয়া হবে। ওই অর্থ কাজে লাগিয়ে তাঁরা পরবর্তী সময়ে ব্যবসা বা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা। তার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, পূর্বের কয়েকটি রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা ও সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ১৯৮৩ সালে কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিডা) সহায়তায় কেয়ার বাংলাদেশের মাধ্যমে দেশের ৭টি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে ওই ধরনের কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় কর্মসূচিটির পরিধি দেশব্যাপী বিস্তৃত হয়। পর্যায়ক্রমে রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড রোড মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রাম বা আরইআরএমপির প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন করা হয়। সর্বশেষ পর্যায়টি এলজিইডি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. হানিফ কালের জানান, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বছরজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও অকৃষিজাত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাড়বে নারীর কর্মসংস্থানও।