ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার হোসেনীয়া হাই স্কুলের ভবন পাশ দিয়ে চলাচলের রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ৪০১ নম্বর রাস্তাটি প্রথমে টিনের বেড়া দেয়, পরে টিনের ছাপরা দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে চা বিক্রি করছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেট ভেঙে ফেলেছে। রাস্তাটি বন্ধের পর যানবাহনসহ সাধারণ মানুষ বিদ্যালয়ের মাঠ দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপজেলার ১২ নম্বর আছিম পাটুলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর মৌজায় বিদ্যালয়টির অবস্থান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনের স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, রামনগর মৌজার আরএস খতিয়ান-৬৩, সাবেক দাগ-২৩২৫, বিএস খতিয়ান নম্বর-৭৩ এবং বিএস-৯৮২৯ নম্বর দাগের জমিতে হোসেনীয়া হাই স্কুলের আধাপাকা ভবন ও রাস্তা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে নির্মিত ও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ওই ভবনে নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রমও চলছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিএস খতিয়ানের মালিক মৌখিকভাবে স্কুলের নামে জমি দান করেন। পরবর্তীতে রেকর্ডীয় মালিক জীবিত থাকা অবস্থায় ওই দানকৃত ভূমিতে বিদ্যালয়ের ভবন ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে দলিলের কথা বলে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও রেকর্ডীয় মালিক জীবিত থাকা অবস্থায় উক্ত ভবন ও রাস্তার জমি নিয়ে কোনো দাবি করেননি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় থাকা অবস্থায় বাদীপক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ৪০১ নম্বর রাস্তাটি টিনের ছাপরা দিয়ে আটকে দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনাও বিরাজ করছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া আবেদনে বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ভবন ও রাস্তার জায়গায় বহাল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের চলাচলের দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। আছিম পাটুলি ইউপি চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস বলেন, ওইখানে স্কুলের সাথে জমি নিয়ে মামলা চলছে।
যা আদালতে বিচারাধীন, হঠাৎ তারা এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ৪০১ নম্বর রাস্তা আটকিয়ে দিয়ে সকলকে ভোগান্তিতে ফেলেছে। জনদোর্ভোগ নিরসনের স্বার্থে তাদের সাথে অনেক কথা বলেছি, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী (নায়েব) কথা বলেছে, তারা কোনো কথা শোনে না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, যেখানে ছাপরা ঘর করে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। এটাই এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ৪০১ নম্বর রাস্তা।
প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী ও উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ করেছেন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। উপজেলা প্রকৌশলী জোবায়ের হোসেন বলেন,এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ৪০১ নম্বর রাস্তা বন্ধের অভিযোগ পেয়েছি ঘটনাস্থল পরিদর্শন পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান সিজন করে জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।