ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন,চাঁদপুর জেলার অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রায় ৮ হাজার একরজুড়ে এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং কোনো ধরনের ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই খাস জমিতে একটি আধুনিক ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) স্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বদরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাহেলা ওসমান সিকদার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং প্রাইম ব্যাংক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত চক্ষু শিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনার এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, মাস দুয়েক আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরে এসে মঞ্চে ইপিজেড করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারের কী পরিমাণ খাস জমি রয়েছে এবং সেসব জমিতে ইপিজেড করা সম্ভব কি না, তা খুঁজে দেখছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, কৃষির সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৭ থেকে ৮ হাজার একর জমির ওপর বড় ধরনের এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ এলাকায় সরকারি খাস জমিতে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানও খুঁজে দেখছে সরকার।
সরকার বর্তমানে আর্থিক স্বচ্ছলতার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই নতুন করে জমি অধিগ্রহণ না করে সরকারি খাস জমিতেই ইপিজেড করা যায় কি না, সেটিই বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ইপিজেড স্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু জমি থাকলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সুবিধা আছে কি না, সড়ক যোগাযোগ কেমন, সাইটটি উন্নয়ন করতে কত খরচ হবে এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের পণ্য সহজে সড়ক বা নৌপথে চট্টগ্রামে নেওয়ার সুযোগও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এদিকে চাঁদপুরের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন বিডা চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, চাঁদপুরে একটি বড় এগ্রোভোল্টাইক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার চেষ্টা চলছে। এ প্রকল্পে শুধু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না, সৌর প্যানেলের নিচের জমিতে কৃষিকাজও করা যাবে। অর্থাৎ একই জমি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, প্রকল্পের জন্য চাঁদপুরে কয়েকটি বড় জায়গা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে দ্রুত সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, পরিকল্পিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার একর বা তারও বেশি জায়গাজুড়ে হতে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি চাঁদপুরের বিদ্যুৎ সংকটেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি আশা করছেন তারা।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বলেন, এই প্রকল্পের সুফল শুধু চাঁদপুরবাসীই পাবেন না, সমগ্র দেশের মানুষ এর সুফল পাবে। কারণ উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো কিছু বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন। তবে আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত আপনাদের জন্য এটা করা যায়, তত দ্রুত করার।চাঁদপুরের এসব উন্নয়ন উদ্যোগের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়মিত জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতি তিন মাস পরপর এসব কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। চক্ষু শিবিরের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহযোগিতা করা হবে এবং তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সংগঠনের সদস্য অধ্যাপক ড. তারিকুজ্জামান সোহেল শিকদার, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, এডিশনাল আইজিপি (টেলিকম) মো. মনিরুজ্জামান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন, প্রাইম ব্যাংকের এমডি নাজিম এ চৌধুরী, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর হারুন চৌধুরী, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি, মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদস্য খোকা শিকদার।
পরে এদিন দুপুরে তাঁর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনার অংশ হিসেবে চাঁদপুরে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় ৮ হাজার একর জমিতে একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন (এগ্রোভোল্টাইক) কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা দেশের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এছাড়া, ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে সম্পূর্ণ খাস জমিতেই ইপিজেড নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আশিক চৌধুরী আরো বলেন, বৈঠকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, গ্যাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নদী ভাঙন রোধের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুরে পরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উক্ত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলার জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড.একেএম সলিম উল্ল্যা সেলিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামিউল হিকমা, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।