সীতাকুণ্ডে হামলা থেকে রেহাই পায়নি নারীরাও, ভাঙচুর ৫ যানবাহনে

এফএনএস (কেশব কুমার বড়ুয়া; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
সীতাকুণ্ডে হামলা থেকে রেহাই পায়নি নারীরাও, ভাঙচুর ৫ যানবাহনে

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সংঘাতের উত্তাপ এবার গিয়ে পড়েছে নারী কর্মীদের ওপর। কর্মসূচিতে যোগ দিতে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডের দিকে যাওয়ার পথে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় নারী কর্মীদের বহনকারী গাড়িসহ পাঁচটি যানবাহনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন নারী কর্মী আহত হয়েছেন। হামলার সময় একটি পিকআপে থাকা মাইক ও ব্যাটারি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হামলায় আহত এক চালকসহ দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম মুকুল বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে কুমিরা এলাকা থেকে নারী কর্মীসহ নেতা-কর্মীরা, মিনিবাস ও পিকআপে করে সীতাকুণ্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে তাঁদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়। এরপর একদল লোক যানবাহনে হামলা চালায়। একপর্যায়ে নারী কর্মীদের বহনকারী গাড়িতেও হামলা হলে ভেতরে থাকা নারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন নারী আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।

মুকুলের ভাষ্য, একই ঘটনায় চারটি  মিনি বাস ও একটি পিকআপসহ মোট পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। গাড়ির চালকরাও হামলার শিকার হন। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। পিকআপটি ভাঙচুরের পর এতে থাকা মাইক ও ব্যাটারি নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় আহত শূর বানু, বহিনুর খাতুন, হাসিনা, সেলিমা ও কামরুন নাহারসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মুকুলের দাবি, হামলায় আহত এক চালক এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দলের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার জন্য স্থানীয় কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীদের দায়ী করেছেন মুকুল। তাঁর অভিযোগ, কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। 

এদিকে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ১ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা, গাড়ি ভাঙচুর এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এসব ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়া যুবকদের গ্রেপ্তারের পর থানায় মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহন ভাঙচুর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের অভিযোগ ওঠে। বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা। সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র হাতে কয়েকজন যুবকের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এর মধ্যেই নারী কর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলার অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীসহ সাধারণ নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে সাধারণ কর্মী কিংবা নারী কর্মীদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই হুমকির মুখে পড়া উচিত নয়। হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে