গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল থাকছে। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের চেম্বার আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত এ মামলায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এনবিআরের অতিরিক্ত কর দাবিকে অবৈধ ঘোষণা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করেছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই দুটি রিট খারিজ করে দেওয়ার পর রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়।
তিনি বলেন, “চেম্বার জজ বলেছেন, যেহেতু হাইকোর্ট এখনো পূর্ণাঙ্গ জাজমেন্ট দেয়নি এবং আমরা তা পাইনি, সুতরাং এই বিষয়ে আমরা কোনো ইন্টারফেয়ার করব না। জাজমেন্ট এলে সেটি দেখে পরে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুনানির সময় এনবিআর ও রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চান। পরে আদালত মৌখিকভাবে জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর গ্রামীণ কল্যাণকে লিভ টু আপিল করার সুযোগ দিতে হবে এবং এর মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ করে দেন। রিট দুটির মাধ্যমে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য এনবিআরের পুনর্নির্ধারিত আয়কর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
হাইকোর্টের ওই রায়ের ফলে এনবিআরের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায়ের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রায়ে ওই অর্থ তিন অর্থবছরের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে চেম্বার আদালতে রায় স্থগিতের আবেদন করায় বিষয়টি আপিল বিভাগের পরবর্তী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ বলেছেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে এনবিআর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
গ্রামীণ কল্যাণ ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। পাঁচ করবর্ষের কর নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরোধের সূত্রপাত হয় পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে কর দাবি করাকে কেন্দ্র করে।
এর আগে এ বিষয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০২৪ সালে রিটগুলো খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করা হয়। মামলার সংশ্লিষ্ট বিচারকদের একজন আগে একই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে যুক্ত থাকায় রায়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হয়।
নতুন বেঞ্চে পুনরায় শুনানি শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর রিট দুটি খারিজ করে হাইকোর্ট। এর চার দিনের মাথায় সেই রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ। সোমবারের আদেশে হাইকোর্টের রায় স্থগিত না হওয়ায় ৬৬৬ কোটি টাকা কর সংক্রান্ত বিরোধটি এখন পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।